এবারের প্রিমিয়ার লীগ সিজনের সেরা আকর্ষণ ব্রেন্টফোর্ড স্পার্সের বিপক্ষে একটি ভালো খেলা উপহার দিয়ে তাদের মিড-টেবিল মর্যাদা ধরে রাখতে চাইবে। টেবিলের প্রথমভাগের (শীর্ষ ১০) প্রবেশপথ তাদের জন্য খোলা, কারণ তারা ১০ম স্থানে থাকা লেস্টার হতে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে। তবে, এই ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের প্রতিপক্ষ টটেনহ্যামের জন্য এই ম্যাচটি জেতা অধিকতর জরুরি, কেননা আগামী সিজনে চ্যাম্পিয়নস লীগ খেলার দৌড়ে তারা এবং তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দী আর্সেনাল একটি দ্বিমুখী লড়াইয়ে লিপ্ত বললে ভুল হবেনা। পয়েন্টের দিক থেকে তারা একদম সমান এবং প্রত্যেকটি ম্যাচ জিতলেই শুধু স্পার্স আগামী সিজনে চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল নিশ্চিত করতে পারবে।
Author: admin
দের নামে এবারের মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগের সবচেয়ে বেশি ড্র করার রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও কেন বার্নলি রেলিগেশনের সাথে লড়াই করছে তা বোঝা বড়ই দায়। এখন তাদের রেলিগেশন থেকে বাঁচতে হলে ম্যাচ জেতা শুরু করতে হবে, এবং তাদের পরবর্তী খেলায় সাউথ্যাম্পটনের সাথেই সে ধারার শুরু হলে তাদের জন্যই ভালো। সাউথ্যাম্পটনের খাতায় এবারের মৌসুমে একটি অদ্ভুত রেকর্ড রয়েছে। তারা টেবিলের একদম নিচের তিন দলের বিপক্ষে খেলা তাদের সর্বশেষ তিন ম্যাচের মধ্যে দুইটি ম্যাচেই হেরেছে। সেই ধারার ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে বার্নলির জন্য একটি সুখবরই অপেক্ষা করছে।
ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এখনো প্রত্যেক ম্যাচেই জিয় হাসিল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিভারপুলের নিকট হতে নিজেদেরকে কিছুটা এগিয়ে নিতে এবং একই সাথে চ্যাম্পিয়নস লীগেও নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে। ব্রাইটন গত সপ্তাহজুড়ে আকষ্মিকভাবে আর্সেনাল এবং টটেনহ্যাম উভয়কেই হারানোর আগে একটি বাজে সময় পার করেছিল, যেখানে তারা ৭ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হেরেছিল। গ্রাহাম পটারের দল চাইবে ম্যানচেস্টার সিটি’র সকল পরিকল্পনায় পানি ঢেলে দিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে, যার ফলে তারা সিজনের শেষের দিকে এসে আগামী সিজনে যেকোন একটি ইউরোপীয় প্রতিযোগীতায় নাম লেখানোর একটি শেষ চেষ্টা করতে পারে।
যেকোন ভাবেই হোক, এডি হাও নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের জীবন ফিরিয়ে এনে দিয়েছেন। তারা এবছর, অর্থাৎ ২০২২ সালে, এ পর্যন্ত ম্যাচ প্রতি গড়ে একটি করে গোল হজম করলেও বছর শুরুর পর থেকে তারা মোট ৮টি ম্যাচে জয়লাভ করতে পেরেছে (সাথে রয়েছে ২টি ড্র এবং ৩টি পরাজয়)। এই মৌসুমে উন্নতির প্রচুর ইংগিত প্রদর্শন করলেও ক্রিস্টাল প্যালেস বা ঈগলস’রা পরের মাঠে পর পর ৬টি ম্যাচ হেরেছে এবং ম্যানচেস্টার সিটি ব্যতিত রেলিগেশন জোনের বাইরের দলগুলির বিপক্ষে তাদের অ্যাওয়ে রেকর্ড খুবই শোচনীয়।
এভারটন এই খেলাটিতে অংশ নিবে গত উইকেন্ডে আকষ্মিক ছুটি কাটানোর পরে, এবং তার ঠিক আগেই তারা আরেক আকষ্মিক ঘটনায় রাল্ফ রাঙনিকের শোচনীয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলকে হারিয়েছিল ১-০ গোলে। ব্রেন্ডান রজার্সের লেস্টার দল, অন্যদিকে, তাদের গত ম্যাচে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের নিকট ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে। ম্যাগপাইদের কাছে হারা পূর্বে অবশ্য ফক্সেস’দের ফর্ম বেশ ভালোই ছিল, এবং এর আগে তারা তাদের গত ৫ ম্যাচে শুধু একবারই হেরেছিল। প্রিমিয়ার লীগের শীর্ষ ভাগে থাকতে হলে লেস্টারের এখন প্রায় বাকি সব ম্যাচেই জয়লাভ করতে হবে, যার শুরু হতে হবে এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচটির দ্বারা।
ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড এই মৌসুমে অনেক দূর পাড়ি দিয়েছে। তারা প্রিমিয়ার লীগে ৬ষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে, এবং একই সাথে তারা সম্প্রতি উয়েফা ইউরোপা লীগে ফরাসী ক্লাব অলিম্পিক লিওঁকে হারিয়ে সেমি ফাইনালে অবতরণ করেছে। এখন এই দলকে দেখলে কে বলবে যে ২০১৯/২০ মৌসুমে এই দলই রেলিগেশন থেকে একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছিল? ময়েস এসে কি সুন্দর পরিবর্তনটাই না করেছেন দলে! বার্নলি লন্ডন স্টেডিয়ামে সফর করবে এই খবর পাওয়ার পর যে গত শুক্রবারে হঠাৎ করেই তাদের দীর্ঘ সময়ের কোচ শন ডাইশকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই মৌসুমে বার্নলির সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে গোল করা, এবং তার সাথে এই ম্যাচে এটিও তাদেরকে পীড়া দিবে…
নিউক্যাসেল তাদের ৩ ম্যাচের পরাজয়ের ধারাটি ঘুচিয়েছে তাদের সর্বশেষ ম্যাচে একটি রক্ষণাত্মক ওলভস দলের বিপক্ষে। তারা তাদের এই নব্যপ্রাপ্ত ফর্মকে ধরে রাখতে চাইবে এবং লেস্টার সিটির বিরুদ্ধে একটি জয় অর্জন করতে চাইবে, বিশেষ করে কারণ এর পরে তাদের সিজন সমাপ্তির পূর্বে মুখোমুখি হতে হবে আর্সেনাল, ম্যান সিটি ও লিভারপুলের মত শক্ত প্রতিপক্ষের। লেস্টার এই ম্যাচটিতে মাঠে নামবে তাদের সর্বশেষ উপলব্ধ ১৮ পয়েন্টের মধ্যে ১৩ পয়েন্ট অর্জন করার পর। বর্তমানে তাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে তুঙ্গে এবং তারা এখন প্রিমিয়ার লীগ টেবিলের শীর্ষ ভাগে (শীর্ষ ১০) জায়গাও করে নিয়েছে। তবে এটিও উল্লেখ্য যে লেস্টার সিটি এখনো উয়েফা কনফারেন্স লীগে টিকে রয়েছে, এবং সেখানে…
ওয়াটফোর্ড সর্বশেষ নিজেদের মাঠে জিতেছিল গত বছর নভম্বরের শুরুতে যখন তারা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ঐতিহাসিকভাবে হারিয়েছিল। অবশ্য তারা এই ব্যাপারটি ভাবলে একটু চিন্তামুক্ত হবে যে, ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের মাঠে তারা গত নয়বার মুখোমুখি হয়ে একবারও পরাজয় বরণ করেনি। অপরদিকে, তাদের গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জয়লাভ করে আগামী মৌসুমের জন্য প্রিমিয়ার লীগে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিয়েছে ব্রেন্টফোর্ড।
উভয় দলই ম্যাচটিতে মাঠে নামবে তাদের সর্বশেষ ম্যাচে জয় নিয়ে। টটেনহ্যাম বর্তমানে পর পর চার ম্যাচ ধরে একটি জয়ের ধারা বজায় রেখেছে, এবং ব্রাইটন তাদের সর্বশেষ ম্যাচে আর্সেনালকে হারিয়েছে। ব্রাইটনের অবশ্য সতর্ক থাকতে হবে স্পার্সের দুই ফরোয়ার্ড সন হিউং মিন এবং হ্যারি কেইনের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে হলে, কারণ উভয়েই রয়েছেন বেশ দারুণ ফর্মে। সন সুনাম কুড়াচ্ছেন তার অসাধারণ ফিনিশিং এবং গোলস্কোরিং নৈপূণ্যের জন্য, যেখানে কেইন প্রশংসা পাচ্ছেন তার অসাধারণ এসিস্টগুলির জন্য। সিগালরা এই ম্যাচটিতে অনেক আত্মবিশ্বাস এবং আগ্রহ নিয়েই প্রবেশ করবে, কারণ তাদের মাথায়ও এই ব্যাপারটি থাকবে যে, এই ম্যাচটিতে যদি তারা জয় হাসিল করতে পারে, তাহলে তারা প্রিমিয়ার…
যেহেতু এই ম্যাচের পরে বর্তমান মৌসুমে আর মাত্র ৬টি ম্যাচ বাকি থাকবে, সেহেতু নরউইচ সিটির বিরুদ্ধে এই ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৩ পয়েন্ট অর্জন করা খুব জরুরি যদি তারা সামনে সিজনে চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলার সর্বশেষ পজিশনটি অর্জন করতে চান, বিশেষ করে কারণ তাদের বাকি ৬টি ম্যাচের মধ্যে রয়েছে লিভারপুল, আর্সেনাল ও চেলসির বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ। আরেকদিকে, যদিও নরউইচ লীগ টেবিলে সবার নিচে অবস্থান করছে, তবুও তারা যদি তাদের হাতে থাকা খেলাগুলিতে জয়লাভ করতে পারে, তাহলে তাদের প্রিমিয়ার লীগে টিকে থাকার সম্ভাবনা এখনো কিছুটা রয়েছে।