একবার নয়, বরং পর পর দুইবার এমন হয়েছে যে পগবা রেড ডেভিলদের হয়ে খেললেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং তার মধ্যে কোনপ্রকার বনিবনাই হয়নি। ওল্ড ট্রাফোর্ডে দুই দফায় খেলতে এসেই দর্শক ও ভক্তদের শুধু তিনি উপহার দিতে পেরেছেন এক গাদা সমালোচনা এবং অনেকখানি অনিশ্চয়তা। তবে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার সর্বশেষ স্পেলের পরে তিনি দলটির সমর্থকদের মুখে একটি তিক্ত স্বাদই রেখে যেতে পেরেছেন, এবং তার সাম্প্রতিক কিছু উক্তিও সেটির জন্য দায়ী।

    ঘটনাক্রমে এটিও মানতেই হয় যে, পল পগবাকে নিয়ন্ত্রণে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেরও বেশ কিছু ভুল ছিল। এর মধ্যে অন্যতম হল খেলোয়াড়টির সাথে শুরু থেকেই একটি ভঙ্গুর সম্পর্ক তৈরি করা, যা গত কয়েক বছরে খুবই বড় আকার ধারণ করে। তবে, সেসব বাদ দিলে, এ ব্যাপারটি এখন এসে স্পষ্ট হয়েছে যে পগবার মধ্যেই কোন একটা ত্রুটির উপস্থিতি রয়েছে এবং তিনি তার নিজের কর্মের ফলই ভোগ করে চলেছেন।

    এটি বলাই বাহুল্য যে, ফুটবল ইতিহাসে যারাই নাম করেছেন, অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন বা ইতিহাস রচনা করেছেন, তাদের সকলেই ছিলেন বেশ একগুঁয়ে স্বভাবের। তাদের ইগো সবসময়ই ছিল উঁচুতে। তবে একগুঁয়েমি এবং অহংকার এর মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে তফাত রয়েছে, এবং পগবার মাঝে, এবং বিশেষ করে তার কথাবার্তায়, দ্বিতীয়টির প্রভাবই বেশি লক্ষণীয়।

    এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার সম্প্রতি একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম মুক্তি দিয়েছেন, যেখানে তিনি তার গত কয়েক বছরের সব অভিজ্ঞতার পর্দা ফাঁস করেছেন। “দ্য পগমেন্টারি” নামক এই ডকুমেন্টারিতে তিনি অনেক ব্যাপারেই কথা বলেছেন, যার মধ্যে একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তার ফুটবল ক্যারিয়ার, এবং বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার কাটানো সময়কাল, যেখানে, তার মতে, তাকে মাঠে এবং মাঠের বাইরে অনেকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। সত্যি বলতে, ডকুমেন্টারিটিতে তিনি এমনও অনেক কথা বলেছেন যেগুলি যুক্তিসম্পন্ন। তবে তার কথাগুলি পরিবেশনের ভঙিমা এবং তার অভিযোগগুলির পরে করা তার মন্তব্যগুলি খুবই মানহানিকরই ছিল।

    পগবা দাবি করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তাকে কখনোই যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি (Pogba claims he never felt important at Manchester United)

    পগবা তার পগমেন্টারিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে জানাতে চেয়েছেন যে, তারা তাকে আরো অনেক আগে একটি বিশেষায়িত এবং অর্থবহুল চুক্তি প্রদান না করে বিশাল বড় ভুল করেছে।

    এই ফরাসি বিশ্বকাপ বিজয়ী তারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাথে তার চুক্তি শেষ হওয়ার পর এবার তার সাবেক দল জুভেন্টাসে ফেরত যেতে চলেছেন। এটিও সম্প্রতিই জানা গিয়েছে যে, ২৯ বছর বয়সী এই তারকা কিছুদিন আগেও ৩০০,০০০ পাউন্ড এর সাপ্তাহিক বেতনসম্বলিত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের করা চুক্তি অফারকে “এটি তো কিছুই না” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে এটিও মানতে হবে যে, এই অফারটির ফলে তার আয় আসলেও তেমন একটা বৃদ্ধি পেত না, কারণ আগের চুক্তিতেই তার সাপ্তাহিক আয় ছিল ২৯০,০০০ পাউন্ড।

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দ্বিতীয়বারের মত খেলতে এসে খুবই শোচনীয় ছয়টি বছর পার করার পর তাই পগবা আবারো টুরিন শহরেই ফিরে যাচ্ছেন, যেখানে জুভেন্টাসের হয়ে তিনি ২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের সেরা খেলাটি খেলেছেন।

    পড়ুন:  প্রিমিয়ার লিগ কিটস বিবর্তন

    জুভেন্টাসে তার অসাধারণ ক্রীড়ানৈপূণ্যের উপর ভর করেই তাকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইংল্যান্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করে, এবং তা বাস্তবেও পরিণত করে, তাও আবার সে সময়ের বিশ্ব রেকর্ড ফি এর বিনিময়ে, যা ছিল ৮৯ মিলিয়ন ইউরো। রেড ডেভিলদের হয়ে তার প্রথম মৌসুমে তিনি হোসে মোরিনহোর দলকে সাহায্য করে উয়েফা ইউরোপা লীগ এবং ইএফএল লীগ কাপ জিততে। কিন্তু, ঘটনাক্রমে, সেগুলিই হল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অর্জিত সর্বশেষ শিরোপাসমূহ।

    পগবা তার ম্যান ইউ ক্যারিয়ারের বেশ কিছু সময়েই তার অসীম প্রতিভার নানা রকম ঝলক দেখিয়েছেন। ইউনাইটেডে ৬টি মৌসুম খেলে ২২৬ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৩৯। তবে সেটি কোন সমস্যাই ছিল না। ক্লাবটিতে আসার পর থেকেই পগবা’র মূল সমস্যাই ছিল ধারাবাহিকতার চরম অভাব।

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার কাটানো সময়কালে এই ফরাসি মিডফিল্ডার ম্যাচ প্রতি আয় করেছেন ১ মিলিয়ন ইউরো। এখন, যেহেতু ক্লাব ছাড়ার আগে তিনি ক্লাবটির হয়ে ৬টি মৌসুম খেলে ফেলেছেন, তাই যাওয়ার আগে (তার চুক্তির মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত) তিনি সেখান থেকে আরো ৩.৭৮ মিলিয়ন ইউরোর আনুগত্য বোনাস বাগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

    কমবেশি সবার মতেই পগবা’র মন্তব্যগুলি অপ্রয়োজনীয় ছিল (Pogba’s comments were more or less unnecessary)

    পল পগবা এবং তার ব্যক্তিগত এজেন্ট, মিনো রাইওলা (মৃত), যিনি গত মে মাসেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন, প্রায় নিয়তই একে অপরের সাথে বিতর্কমূলক কথোপকথনে জড়িয়ে পড়তেন, যা সংবাদ মাধ্যম বা ফুটবল সমর্থকদের জন্য খুবই দৃষ্টিকটু হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। তবে রাইওলা মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে তারা একটি বিষয়ে একমত হয়েছিলেন, যা হল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন চুক্তির অফারটি প্রত্যাখ্যান করা। পগবা এমনটি সবার সামনেই বলেছেন যে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাকে উন্নত একটি চুক্তি দিতে অনেক দেরি করার কারণে ক্লাবটিকে এক প্রকার শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নতুন চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেননি।

    রাইওলার সাথে একটি কথোপকথনে পগবা জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কি আমার জন্য দ্বিতীয় কোন অফার টেবিলে রেখেছে?”

    প্রশ্নটির জবাবে রাইওলা বলেছিলেন, “হ্যাঁ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মনেপ্রাণে চায় যে আপনি এখানেই থাকুন। তবে, তাদের কথার সাথে তাদের অফারটির কোনই মিল নেই। আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি বলবো যে, এই অফারটি আপনার জন্য একদমই সমীচীন নয়। আমি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও দিয়েছি যে, যদি তারা চায় যে আপনি ক্লাবে থাকুন, তাহলে যেন তাদের অফারটিকে তারা পর্যালোচনা করেন, এবং একটি উন্নত অফার টেবিলে রাখেন।

    তিনি পগবাকে আরো বলেন, “আমি তাদেরকে (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে) আরো জানিয়ে দিয়েছি যে, যদি তারা আপনাকে দলে রাখতে চায় এবং আপনাকে কেন্দ্র করে একটি নতুন স্পোর্টিং প্রজেক্ট গড়ে তুলতে চায়, তাহলে এবার তাদের আরো বেশি করে এবং আরো ভিন্ন রকমের চেষ্টা চালাতে হবে, এবং আরো অনেক টাকাও ঢালতে হবে।”

    পড়ুন:  ট্রান্সফার নিউজ: ডেক্লান রাইসের মূল্য কি £100 মিলিয়ন?

    পগবা এরপর প্রশ্নগুলির উত্তর হিসেবে তাকে বলেন, “তারা একটি চালাকি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আপনি একই সময়ে একজন খেলোয়াড়কে বলতে পারেন যে আপনি তাকে মনেপ্রাণে চান, কিন্তু তাকে বছরের পর বছর কোন প্রকারের আয় বৃদ্ধির সুযোগই দেন না — এটি কি মোটেও সমীচীন?”

    “জয় অর্জনের পাশাপাশি খেলতে পারাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমার বর্তমান মানসিকতা অনেকটা এরকম যে, আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে দেখিয়ে দিতে চাই যে সময়মত আমাকে সঠিক মূল্যের একটি চুক্তি প্রদান না করে তারা কত বড় ভুল করেছে! এছাড়া আমি অন্য সকল ক্লাবকেও জানিয়ে দিতে চাই যে, চুক্তি অফার করার সময়ে ইউনাইটেড এই এই ভুল করেছিল, এবং তার জন্য তাদেরকে এত বড় শাস্তি পেতে হয়েছে। এমনটি যেন আর কোন ফুটবলারের সাথে না হয়!”

    প্রামান্য চিত্রটির আরেক অংশে মিনো রাইওলা এটিও দাবি করেছেন যে, ম্যান ইউনাইটেডে খেলার সময় পগবা’র চলনভঙ্গি, কথাবার্তা ও মনযোগ যে অবস্থায় থাকে, ফরাসি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় সেই অবস্থা যেন পুরোপুরি পাল্টে যায়।

    এখানে মিনো রাইওলা আরো বলেন, “জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় পগবার রূপ একরকম (সম্পূর্ণভাবে প্রজ্জ্বলিত), আবার জাতীয় দল থেকে ফেরার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পগবার রূপ আরেক রকম (বিচলিত ও নিমজ্জিত)। এটি একদমই সাধারণ কোন ব্যাপার নিয়, এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এ ব্যাপারে অনেক আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।”

    “ফরাসি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় তিনি আমাদের চিরচেনা প্রতিভার শিখরে থাকা পল পগবা, যেমনটি তিনি ছিলেন তার জুভেন্টাসের দিনগুলিতে। এই পগবাকেই আমরা সকলে প্রশংসা করেছিলাম। কিন্তু, যখনই সেই একই মানুষটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলেন, তখনই তার খেলা দেখলেই মনে হয় কিছু যেন তাকে বার বার বাঁধা দিচ্ছে, কি যেন তাকে আঁকড়ে ধরেছে। এটি যেমন তার জন্য বেশ দুঃখজনক এবং চিন্তার একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্যও কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই পুরো পরিস্থিতিটি।”

    পগবাকে ছাড়াই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আরো বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারতো (Manchester United were better off getting rid of Paul Pogba)

    বাস্তব অর্থে, গোড়াতেই ছিল মূল গলদ। যে ট্রান্সফার ফি এর বদৌলতে পগবাকে দলে ভেড়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, সেই ট্রান্সফার ফি এর চাপেই প্রাথমিকভাবে নুইয়ে পড়েছিলেন পগবা। তার কপালের প্রাইসট্যাগের কারণেই মিডিয়ার প্রচুর সমালোচনারও শিকার হতে হয় তাকে। এমনটি যেকোন গড়পড়তা খেলোয়াড়ের সাথে অবশ্যই হয় না। তিনি পগবা বলেই তাকে এসব সহ্য করতে হয়েছে৷

    এ বিষয়টিও তাকে মোটেও সাহায্য করে নি যে, প্রায়শই পগবাকে দেখা যেত নতুন নতুন হেয়ারস্টাইল নিয়ে ঘুরে বেড়াতে, অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে নাচানাচি করতে বা ভাইরাল ভিডিওতে।

    এরই পাশাপাশি, এটিও বলতেই হয় যে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালীন সময়ে পগবা কিছুদিন পর পরই ইঞ্জুরির শিকার হয়েছেন। এখন, এমন একজন খেলোয়াড়কে একটি দল কেনই বা দলে রাখতে চাইবে যিনি নিজেকে ধারাবাহিকভাবে কয়েক মাস ফিটই রাখতে পারেন না? বিশেষ করে যখন আপনি এই বিষয়টিও আমলে নিবেন যে তাকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে আনার জন্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে কত বড় একটি মূল্যই না গুনতে হয়েছিল, তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে তার ইউনাইটেড ক্যারিয়ারের শেষে কেন পগবা ক্লাবটির জন্য একজন বোঝাস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এছাড়া, এ ব্যাপারটিও তাকে মোটেও সাহায্য করেনি যে, তার ইউনাইটেড ক্যারিয়ারের শুরুতেই কোচ হোসে মোরিনহোর সাথে তার কথা কাটাকাটির ঘটনা প্রকাশ্যে চলে আসে, এবং সেটির কারণে সমর্থকদের কাছে তিনি আরো ছোট হয়ে যান।

    পড়ুন:  রেলিগেশনের পর সাউদাম্পটনের কী হবে?

    প্রকৃতপক্ষে, পগবা তার প্রামাণ্য চিত্রে এসব উল্টাপাল্টা দাবি করার পর বিশিষ্ট ফুটবল বিশারদ রিচার্ড কিজ প্রকাশ্যে পগবাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন, এবং তাকে একটি “ভাইরাস” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “আমার মনে হয় না এই তথাকথিত পগমেন্টারিতে এমন কিছু আছে যা আমার মনকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারবে যে — পগবা একজন ভাইরাস, এবং সে বিদায় নেওয়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বেশ খুশিই হবে।”

    তিনি আরো লিখেন, “৩০০,০০০ ইউরোর সাপ্তাহিক বেতনকে আপনি “কিছুই না” বলে উড়িয়ে দিতে পারেন? ক্লাবের কারো কাছ থেকেই তিনি ভালোবাসা পাননি? (বিদ্রূপমাখা হাসি) এমনটি দয়া করে বলবেন না। মোরিনহো তাদের মধ্যকার কথা কাটাকাটিগুলি নিয়ে আমাকে বিস্তারিত বলেছিলেন, এবং, বিশ্বাস করুন, আপনি সে সম্পর্কে জানলে আপনার কাছেও কোনক্রমেই পগবার পক্ষ নেওয়া সমীচীন মনে হবেনা।”

    বাস্তবেই, পগবার ইউনাইটেড ছাড়াটা তার নিজের জন্য এবং ক্লাব হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য, অর্থাৎ উভয় পক্ষের জন্যই একটি সুসংবাদ, এবং এমনটি হওয়ার দরকার ছিল অনেক আগেই। এছাড়া, এরিক তেন হাগ এর মত একজন শাসনমূলক এবং নীতিবান কোচের অধীনে পগবা এমনিতেও বেশিদিন টিকে থাকতে পারতেন বলে অনেকেই মনে করছেন না।

    বর্তমানের ফুটবল বাজারে প্রচুর খেলোয়াড়ের জন্য টাকাটাই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও কখনোই এবং কোনক্রমেই একটি ক্লাব বা দলের চেয়ে একজন খেলোয়াড় বড় হতে পারেন না। পিএসজি’র মত তেলের অর্থে হাবুডুবু খাওয়া একটি ক্লাব কিলিয়ান এমবাপ্পের মত খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এমনটি হতে দিতে পারে, কিন্তু গত দশ বছরে তাদের খেলার মানে অনেকাংশে অবনতি হলেও, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মত একটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এমনটি মোটেও হতে দিতে পারে না।

    কম বেশি এভাবে বলাই যেতে পারে যে, পগবা ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য এক ধণের বিলাসিতা বা সৌখিনতার প্রতীক। কিন্তু, এখন যখন তাদের পুরো দলটি একটি পুনর্গঠনের প্রাক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, তখন এসে পগবা’র মত একগুঁয়ে খেলোয়াড়ের আর কোন দরকারই তাদের নেই। তার সাবেক দলে ফিরে গিয়ে পগবা তার ক্যারিয়ারে আবার প্রাণ ফেরাতে পারেন কি না এটিই এখন দেখার বিষয়।

    Share.
    Leave A Reply