ভূমিকা (Intro)

একবার নয়, দুইবার নয়, লিওনেল মেসি’র ক্যারিয়ার জুড়ে বহুবার অনেকেই তাকে তুচ্ছ করে বলেছেন যে তার ক্যারিয়ার এবার শেষ, আর তিনি তার পুরনো ফর্ম ফিরে পাবেন না। কিন্তু, প্রতিবারই এই আর্জেন্টাইন জাদুকর সেসকল নিন্দুকের বাড়া ভাতে পানি ঢেলে দিয়ে ফর্মে ফিরেছেন, বিশ্বকে সাক্ষী রেখে একের পর এক মানসম্পন্ন এবং অলৌকিক পারফর্মেন্স দিয়েছেন। তিনি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি পুরনো বোতলে রাখা পুরনো মদের মতই সময়ের বিবর্তনে আরো সুস্বাদু হয়ে চলেছেন। তার খেলা দেখলে যে কারো মনে একটি কথাই ফিরে ফিরে আসে, “কি করে পারো তুমি লিওনেল, কি করে পারো!”

তা তিনি ২০ বছর বয়সী একজন পাওয়ার প্যাকড ড্রিবলারই হোন, বা ৩৫ বছর বয়সী একজন ট্যাকটিকাল জিনিয়াস, গত ১৭ বছর ধরে প্রতিনিয়তই লিওনেল মেসি তার খেলায় কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন এনেছেন, যা তার খেলা বেশি উপভোগ্য এবং সময়োপযোগী করে তুলেছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত গড়তে পারেন, তিনিই তো আসল খেলোয়াড়।

গত বছরের গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে যোগ দেওয়ার পর আবারো অনেকেই তার ব্যাপারে বলছে যে তার ক্যারিয়ারের শেষ ঘন্টা বুঝি এবার বেজেই গেল! কিন্তু, যখন এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক একদম তুঙ্গে, তখন আমরা আপনাকে ৫টি কারণ দেখাব এবং তার মাধ্যমে প্রমাণ করব যে লিওনেল মেসি’র ক্যারিয়ারের পর্দা টানার সময় এখনো আসেনি, বরং এখনো অনেক কিছু অর্জন করার মিশন নিয়েই মাঠে নামবেন এই সুপারস্টার!

চলুন শুরু করা যাক!

১. কোপা আমেরিকার মহানায়ক (1. The Copa America protagonist)

যদিও লিওনেল মেসি’র নিন্দুকরা বার বার এটি বলতে চান যে তার ক্যারিয়ার এবার শেষ, মেসিও বার বার তাদেরকে ভুল প্রমাণ করেই যান। তার সাম্প্রতিক পারফর্মেন্সও সেদিকেই নির্দেশ করছে। আমরা আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এটিও দাবি করব যে, গত দুই বছর ছিল লিওনেল মেসি’র ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল ও সেরা দুইটি বছর। এই বক্তব্যের পক্ষে আমাদের যুক্তি এখানে দেওয়া হলঃ

ক্লাব ফুটবলের দুনিয়ায় যত শিরোপা বা পুরষ্কার জেতার জন্য উপলব্ধ রয়েছে তার সবই জিতে নিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। কিন্তু, তারপরও, তার রাজকীয় মুকুটে যেন কিছু একটার অভাব রয়েই গিয়েছিল! সেটি হল একটি আন্তর্জাতিক শিরোপা। চার চার বার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেও শিরোপা হাতে নিতে পারেননি মেসি। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২০১৪ সালের সেই আবেগঘন ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালটিও।

তবে, সকল বাঁধা অতিক্রম করে অধরাকে ধরতে পারাতেই তো একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের পরিচয়। মেসিও ঠিক তাই করেছেন। তিনিই তার দেশের জন্য ওয়ান ম্যান আর্মির রূপ ধারণ করে নিজের জন্য এবং তার দেশ আর্জেন্টিনার জন্য ঘরে তুলেছেন কোপা আমেরিকার শিরোপা, এবং ঘুঁচিয়েছেন তার আন্তর্জাতিক শিরোপার খরা। প্রতিযোগিতাটি জুড়েই তিনি ছিলেন এক কথায় অনবদ্য। সেই টুর্নামেন্টটিতে করা আর্জেন্টিনার ১২টি গোলের মধ্যে ৯টির সাথেই জুড়ে ছিলেন লিওনেল মেসি নিজে। এটাকে সম্পূর্ণরূপে ডমিনেন্স ছাড়া আর কিই বা বলা যায়! ৫টি এসিস্ট এবং ৪টি গোল নিয়ে তিনিই হয়েছিলেন প্রতিযোগিতাটির গোল্ডেন বুট বিজয়ী এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কারটিও তার হাতেই উঠেছিল।

পড়ুন:  রোমান আব্রামোভিচের অধীনে চেলসি সমর্থকরা যেসকল সুবিধা পেয়েছিল টড বোহলি'র অধীনে সেগুলি তারা পাবেনা - কারণ বিশ্লেষণ

এখানেই শেষ নয়, টুর্নামেন্টটির ফাইনালে আর্জেন্টিনা তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দী ব্রাজিলকে হারিয়েই শিরোপাটি জিতেছিল। এর থেকে উত্তম কিছু কি আর্জেন্টিনা ও মেসি সমর্থকরা আশা করেছিলেন কখনো?

২. ৭ম ব্যালন ডি’অর এবং ৮ম পিচিচি পুরষ্কার জয় (2. 7th Ballon d’Or & 8th Pichichi)

খুব বেশি আগে নয়, বরং ২০২১ সালেই, অর্থাৎ গত বছরেই মনে হচ্ছিল যে, লিওনেল মেসি তার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে রয়েছেন। বার্সেলোনাকে লা লিগায় তিনি পুরোপুরি নিজ হস্তে একটি সম্মানজনক স্থানে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এখানে বলাই বাহুল্য যে, সে সময় থেকেই অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক দিয়ে বার্সেলোনার অবস্থা বেজায় খারাপের দিকে যেতে শুরু করেছিল, এবং তার প্রভাব পড়ছিল তাদের মাঠের খেলায়। তবে, সেই ধ্বংসপ্রায় দলটিতে খেলেই তিনি লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব অর্জন করেন, এবং তার ক্যারিয়ারের ৮ম পিচিচি পুরষ্কারটি সংগ্রহ করেন।

আমরা এখনো স্প্যানিশ কোপা দেল রে শিরোপা জয়ে মেসি’র অসীম ভূমিকার কথা বলিইনি, যা ঘটেছিল সেই একই বছরে তার কোপা আমেরিকায় ভয়ংকর হয়ে ওঠার কিছুদিন আগে।

ঠিক তার পরপরই মেসি তার জীবনের ৭ম ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরষ্কারটিও জিতে নেন, এবং শুধু তাই নয়, মাত্র ৬ মাস আগে তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের তকমাটিও নিজের নামের সাথে যুক্ত করে নেন।

৩. পিএসজিতে কাটানো একটি নীরব বছর (3. An underrated year at PSG)

বার্সেলোনার প্রশাসনিক বিভিন্ন ঝামেলার জের ধরে ২০২১-২২ মৌসুমের শুরুতে লিওনেল মেসিকে তার স্বপ্নের ক্লাব ছেড়ে চলে যেতে হয়। এবং, তার জীবনে প্রথম বারের মত তাকে বার্সেলোনা ব্যতীত অন্য কোন ক্লাবের জার্সি এবং ক্রেস্ট গায়ে চড়াতে হয়।

তিনি পাড়ি জমান ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাবগুলির একটি প্যারিস সেইন্ট জার্মেই এর হয়ে খেলার জন্য। এটি সত্য যে প্যারিসের হয়ে তার নিজেকে খুঁজে পেতে বেশ খানিকটা সময় লেগেছিল। তিনি নিজের অতীতের ছায়াস্বরুপ হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু, একটি বিষয় সকলেই বার বার এড়িয়ে যান, আর সেটি হল যে, মেসি’র এই অফ ফর্মে থাকাটা ছিল শুধু কাগজে কলমে এবং পরিসংখ্যানের মধ্যে৷ মাঠের খেলায় যখনই তিনি নেমেছেন, তখনই তিবি দলের জন্য কিছু না কিছু ঠিকই করেছেন। শুধু তিনি গোল বা এসিস্টগুলিই নিজের নামে করতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে পিএসজি কোচ ম্যানুয়েল পচেত্তিনোর মেসিকে গোল করার জন্য মাঠে নামাতেই হয়নি। বরং, দলটিতে মেসির প্রধান দায়িত্বই ছিল প্লেমেকার হিসেবে খেলা এবং অন্যান্য তারকা স্ট্রাইকারদের জন্য বল সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

আমরা যদি কিছুটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে দেখি, তাহলে বিঝতে পারব যে, পার্ক দে প্রাঁ এর ক্লাবটির হয়ে মেসি বেশির ভাগ সময় পাস ফিডিং, এসিস্ট তৈরি, গেমপ্লে ফরোয়ার্ড করার দায়িত্বেই নিয়োজিত ছিলেন। মাঠের গভীরে থেকে তিনি খেলা নিয়ন্ত্রণ করতেন বললে কোনই ভুল হবেনা। বার্সেলোনায় তিনি যেমন মাঠের তৃতীয়াংশে ছুটে বেড়াতেন এবং গোলের পর গোল করতেন, সেরকম দায়িত্ব পিএসজিতে তিনি পাননি।

আর্জেন্টাইন এই সুপারস্টার এর গোল না পাওয়ার পেছনে আরেকটি কারণ হতে পারে যে, তার ক্যারিয়ারে সর্বপ্রথম বারের মত তিনি একটি সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে প্রবেশ করেছিলেন এবং একেবারেই বিচিত্র একটি খেলার ট্যাকটিক অনুসরণ করছিলেন। বার্সেলোনায় খেলার সময় মেসিই হতেন তার দলের সকল কিছুর কেন্দ্রবিন্দু। অথচ, পিএসজিতে তার কাজই হচ্ছে মিডফিল্ডে গিয়ে বল গ্রহণ করা, এবং গেমপ্লে সামনে এগিয়ে নেওয়া। এর কারণেই তিনি ফরোয়ার্ড পজিশনগুলিতে তেমন একটা যেতেই পারেননি, বেশি বেশি গোল করা তো দূরেরই কথা।

পড়ুন:  কেন প্রিমিয়ার লীগের রেফারিদের ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠছে?

৪. লা ফিনালিসিমা এবং একই ম্যাচে ৫টি গোল করার কৃতিত্ব (4. La Finalissima & 5 goals in a single match)

পিএসজিতে একটি গড়পড়তা মৌসুম কাটানোর পর লিওনেল মেসি ফিরে যান তার জাতীয় দল আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে, যেখানে তিনিই হলেন সকল আকর্ষণের সেরা আকর্ষণ। বর্তমানের আর্জেন্টিনা দলটিই যদি লিওনেল মেসি শুরু থেকে তার পাশে পেতেন, তাহলে আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি কত কিছুই না জিততে পারতেন! লা ফিনালিসিমা নামক একটি ঐতিহাসিক খেলায়, যেটিতে মুখোমুখি হয় উয়েফা ইউরোর বিজয়ী দল এবং একই বছরের কোপা আমেরিকায় বিজয়ী দল, একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামে ইতালি এবং আর্জেন্টিনা। এবং, মেসি এই খেলাটিতেও আবির্ভূত হয়েছিলেন তার সেরা রূপে। তিনি আবারও প্রমাণ করেছিলেন যে, পিএসজিতে খুব একটা ভালো মৌসুম পার করতে না পারলেও তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এখনো আসেনি, এবং ফুটবল বিশ্বের সেরা থেকে সেরা পর্যায়ে তিনি এখনো যেকোন খেলোয়াড়ের চেয়ে ভালো পারফর্ম করতে সক্ষম। মেসি সেই ম্যাচটিতে ২টি এসিস্ট সংগ্রহ করে নেন, এবং আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয়ে অধিষ্ঠিত করেন। তার প্রাণের আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে এটি তার দ্বিতীয় কোন আন্তর্জাতিক শিরোপা।

যদিও তার নিজেরই স্থাপিত মানদন্ডের বিপরীতে ক্লাব ফুটবলে তার ক্যারিয়ারের গত কয়েক বছর তার জীবনের সেরা কয়েক বছর হিসেবে মোটেও গণ্য হবেনা, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তার অনবদ্য সব পারফর্মেন্সই বলে দেয় যে একটি গঠনমূলক রণকৌশল এবং একটি উন্নত মানের দলে খেললে লিওনেল মেসি এখনও বিশ্ব জয় করতে সক্ষম। ৩৫ বছর বয়সী একজন জ্ঞানী ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ার পরেও যেন মনে হয় লিওনেল মেসি এখনও তার ক্ষমতার শিখরে।

৫. অধরা বিশ্বকাপ জয়ের মিশন (5. The World Cup mission)

যদিও এখন লিওনেল মেসি তার জাতীয় দলের হয়ে একটি মেজর শিরোপা জিতে নিয়েছেন, তবুও অনেকেই মনে করেন যে ফুটবল দেবতার কাছে তার একটি বিশ্বকাপ এখনও পাওনা রয়েই গিয়েছে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নায়ক হয়ে আবির্ভূত হয়ে অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়ে তিনি প্রায় এই অধরা শিরোপাটি নিজ হাতে তুলেই নিয়েছিলেন। তবে ফাইনাল ম্যাচটিতে দূর্ভাগ্যবশত জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ে গোল খেয়ে ম্যাচটি হেরে যায় আর্জেন্টিনা। তবে, সেই টুর্নামেন্টটি থেকেও তিনি খালি হাতে ফেরেননি, জিতেছেন গোল্ডেন বল পুরষ্কার।

এখন যদি আমরা ২০২২ সালে ফিরে আসি, তবে দেখতে পাব যে আমরা আবারও একটি বিশ্বকাপের বছরে প্রবেশ করেছি, এবং লিওনেল মেসিও রয়েছেন একদমই আদর্শ একটি পরিস্থিতিতে। এটিও একেবারেই সত্য যে, তিনি যে পর্যায়ের ক্যারিয়ার গড়েছেন এবং যে মানের ফুটবল খেলে এসেছেন, তাতে তার একটি বিশ্বকাপ অবশ্যই প্রাপ্য। এবং, বহু বছর পর এবার এমনটিই মনে হচ্ছে যে, কাতারে এবছরের শীতকালে অনুষ্ঠিতব্য বিশকাপ আসরে শিরোপা জয়ের যোগ্য একটি দল আর্জেন্টিনা গঠন করতে সক্ষম হয়েছে।

পড়ুন:  রেলিগেশন টিম কি করতে পারে আপ থাকার জন্য?

অর্থাৎ, মেসি এখন তার একটি শেষ মিশনে নামবেন এবং এবারও তিনি মাঠে তার পুরোটাই উজার করে দিবেন। এই বিশ্বকাপটি জিতে নিলে কিংবদন্তি ফুটবলারদের তালিকায় তার নামটি ওঠা থেকে আর কেউই আটকাতে পারবে না।

লিওনেল মেসি’র আর কি কি কারিশমা দেখানো বাকি আছে? (Lionel Messi; what’s more to come?)

এই প্রশ্নের বিপরীতে আমরা একটি অদ্ভুত উত্যর দিব; লিওনেল মেসি নিজেও জানেন না তার ফুটবলীয় ক্যারিয়ারে সামনে আর কি কি ঘটাতে চলেছেন তিনি। তার ভালোবাসার ক্লাব বার্সেলোনা থেকে ছিটকে পড়ার পর থেকে ক্লাব ফুটবলে তিনি কিছুটা হলেও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, তা মানতেই হবে।

প্রায়ই যখন মিডিয়ার কর্মীরা তাকে এই প্রশ্নটি করেছেন, তখনই মেসি বার বার একই উত্তর দিয়েছেন যে, তিনি শুধু আগামী বিশ্বকাপের জন্যই আপাতত মুখিয়ে রয়েছেন, এবং তার পরে কি হবে তা তখনই দেখা যাবে। কিন্তু, তিনি এটি অবশ্য বলেছেন যে, এখনও তার ক্যারিয়ারে অনেক কিছুই বাকি রয়েছে, যার মধ্যে থাকতে পারে ক্লাবের পরিবর্তন বা আরো অনেক কিছু।

যারা মেসি’র জীবনযাত্রা অনেক দিন থেকেই অনুসরণ করে আসছেন, তারা অবশ্যই খেয়াল করেছেন যে আমেরিকান জীবন নিয়ে মেসি’র বেশ আগ্রহ রয়েছে। তাই, ভবিষ্যতে যদি তাকে এমএলএস ফুটবলে আমেরিকার সব মাঠে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায়, তাহলেও অবাক হওয়ার কিছুই নেই। এবং এমএলএস এর খেলার স্ট্যান্ডার্ড বিচার করে বলাই যায় যে, এই বয়সেও সেই লীগটির সকল রেকর্ড ভাঙার শক্তি ও সামর্থ্য উভয়ই মেসি’র রয়েছে। পিএসজি’র সাথে তার চুক্তির শেষ বছরে মেসি ইতিমধ্যে ঢুকে পড়েছেন। তিনি এর পরে আবার তাদের সাথে চুক্তি নবায়ন করুক, বা অন্য কোন দলে যোগদান করুক, অথবা আবার ব্লগরানা’র সেই বিখ্যাত জার্সিই গায়ে চড়াক, একটি কথাই আমরা হলপ করে বলতে পারি, এবং সেটি হচ্ছে যে, “মেসি’র ক্যারিয়ার এখনও অনেকটাই বাকি।”

মূল কথা (Bottom Line)

শেষ হইয়াও হইল না শেষ! আপনারা আমাদের দর্শানো পাঁচটি কারণ সম্পর্কে ইতিমধ্যে পড়েছেন, এবং বুঝেছেন যে মেসি’র ক্যারিয়ারের শেষ ঘন্টা কেন এখনো বেজে ওঠেনি। এখন, আমরা আপনাকে একটি শেষ পরামর্শ প্রদান করবঃ লিওনেল মেসির ক্ষমতাকে কখনোই ছোট করে দেখবেন না। আমরা প্রায়ই এ ব্যাপারটি দেখে অবাক হই যে, এখনো অনেকেই লিওনেল মেসি’র ক্যারিয়ার বা তার ফুটবলীয় ক্ষমতা ও অর্জনসমূহ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যদিও তারা ভালো করেই জানেন যে মেসি’র মত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভার ভান্ডার হয়তো বিশ্ব ফুটবলে আর আমরা কখনোই দ্বিতীয়টি দেখতে পাব না। তবুও তাকে নিয়ে সমালোচনা হয়!

এখন যখন তার ক্যারিয়ার অস্তের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে, তখন আমাদের অবশ্যই উচিৎ ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসি’র জায়গাটি বুঝে নেওয়া, এবং তার প্রাপ্য কৃতিত্বটি তাকে দেওয়া, কারণ বছরের পর বছর ধরে তিনি আমাদেরকে যে মানের ফুটবল উপহার দিয়েছেন, তা হয়তো পৃথিবীর ইতিহাসে আর কেউ দিতে পারবেন না!

আমাদের ব্লগটিতে সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। এমন আরও অনেক চমৎকার লিখা পড়তে চাইলে আমাদের সাথেই থাকুন। আবার দেখা হবে, একসাথে জানা হবে অনেক কিছু। ধন্যবাদ।

Share.

Leave A Reply