যেহেতু ২০২১-২২ ফুটবল মৌসুমটি এখন শেষের পর্যায়ে, সেহেতু সকল ফুটবল সমর্থকই এ ব্যাপারে দিশেহারা যে তারা মৌসুমশেষে তাদের ফাঁকা সময়গুলি কিভাবে পার করবেন!

আপনাদের জন্য সমাধান নিয়ে এসেছি আমরা! অতিরিক্ত সময় পার করার জন্য বিগত মৌসুমের রিভিউ পড়ার চেয়ে আর ভালো বিকল্প কি হতে পারে? আর সেই রিভিউ যদি হয় মৌসুমটির সেরা খেলোয়াড়দেরকে নিয়ে, যারা পুরো মৌসুমজুড়েই প্রতিযোগিতায় আগুন লাগিয়ে রেখেছিল, তাহলে তো কথাই নেই!

তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক আমাদের তৈরি করা ২০২১-২২ সালের সেরা প্রিমিয়ার লীগ একাদশে কারা কারা জায়গা করে নিয়েছেন। আমরা এক্ষেত্রে দলটির জন্য একটি ৪-৩-৩ ফর্মেশন ব্যবহার করেছি, যা প্রিমিয়ার লীগের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি ব্যবহার করে থাকে।

গোলকিপার – এডারসন (ম্যানচেস্টার সিটি) [Goalkeeper – Ederson (Manchester City)]

ইনি এমন একটি দলে খেলে থাকেন, যে দলটি আবারও একবার প্রমাণ করেছে যে তারা সুন্দর আক্রমণাত্মক ফুটবলে কতটা পারদর্শী। এবং এডারসন সেই ম্যান সিটি দলে খেলেই প্রমাণ করেছেন যে দলটিতে তার কৃতিত্ব যেকোন অভিভাবকের চেয়ে কোন অংশেই কোন নয়। 

এই দূর্দান্ত ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার বিগত প্রিমিয়ার লীগ মৌসুমে মোট ২০টি ক্লিন শিট অর্জন করেছেন, যা লিভারপুলে খেলা তার ব্রাজিলিয়ান টিমমেট অ্যালিসনের ক্লিন শিটের সংখ্যার সমান। তারা দুইজন তাই এবার সম্মিলিতভাবে প্রিমিয়ার লীগের গোল্ডেন গ্লোভস অ্যাওয়ার্ডটি জিতেছেন। আরো অবাক করা বিষয় হল, তারা দুইজনই এবারের মৌসুমে ২৬টি করে গোল হজম করেছেন নিজেদের দলের হয়ে। তবে, দলকে চাক্ষুষ বিপদ থেকে রক্ষা করার মত সেভ এডারসনকেই বেশি করতে হয়েছে, কারণ মৌসুমজুড়েই সিটির ডিফেন্সে অনেক পরিবর্তন আনতে হয়েছিল পেপ গার্দিওলাকে, যা তাদের ডিফেন্সকে বরাবরই ব্যাহত করে আসছিল। কিন্তু, এডারসন ভালো ফর্মে থাকার কারণেই তারা পার পেয়েছে বলা যায়।

তার দক্ষতার প্রমাণ পেতে আপনাদের বেশি অতীতে যেতে হবেনা। এস্টন ভিলা’র বিপক্ষে মৌসুমের সর্বশেষ ম্যাচে তার করা সেভটি দেখলেই বুঝতে পারবেন তার ক্ষমতা সম্পর্কে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সেই সেভটি না করতে পারলে হয়তো ম্যানচেস্টার সিটি আর ম্যাচটিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারতো না, এবং একটুর জন্য শিরোপাটিও হারাতো লিভারপুলের কাছে।

রাইট ব্যাক – ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নোল্ড (লিভারপুল) [Right Back – Trent Alexander-Arnold (Liverpool)]

ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নোল্ড হলেন এমন একজন খেলোয়াড় যাকে ২০২০-২১ মৌসুমে প্রচুর সমালোচনার শিকার হতে হয়েছিল। বহু ফুটবল বোদ্ধারাই বলেছিলেন যে, যদিও ট্রেন্ট আক্রমণভাগে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম, কিন্তু রক্ষণভাগে তার অকর্মণ্যতার কারণে লিভারপুলকে অনেক গোল হজম করতে হয়। 

অধিকন্তু, তার কাছে প্রমাণ করার মত এবারের মৌসুমে অনেক কিছুই ছিল, এবং তা তিনি করে দেখিয়েছেনও বটে! তিনি মৌসুমজুড়ে বার বার দেখিয়ে গিয়েছেন যে বল পায়ে তিনি কতটা দূর্বার হতে পারেন। এই মৌসুমের পরিসংখ্যান ঘাটলেই দেখা যায় যে, ডানপাশের উইং দিয়ে তার নিকট হতে লিভারপুল পেয়েছে বেশ কিছু এসিস্ট, ডিফেন্স চেড়া ক্রস, এবং অনেকগুলি প্রতিভার ছোঁয়া। 

তবে, শুধু তাই নয়! তিনি এবার এটিও প্রমাণ করেছেন যে, তার দলের রক্ষণভাগকে সামলাতেও তিনি একদমই পিছপা হোন না। অন্যান্য ডিফেন্ডারদের সাথে জুটি বেঁধে তিনি পুরো মৌসুম জুড়েই অ্যালিসনের গোলকে বেশ ভালোভাবে রক্ষা করতে সমর্থ্য হয়েছেন।

সেন্টার ব্যাক ১ – ভার্জিল ভ্যান ডাইক (লিভারপুল) [Centre Back 1 – Virgil Van Dijk (Liverpool)]

অনেক ফুটবল বোদ্ধাই মনে করেন যে, ২০২০-২১ মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগ শিরোপার দৌড়ে লিভারপুলের না টেকার প্রধান কারণই হল সেই মৌসুমে ভার্জিল ভ্যান ডাইকের দীর্ঘ সময় ধরে ইঞ্জুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকা।

পড়ুন:  চেলসি সংকটঃ আব্রামোভিচের বিদায়ের পর লন্ডনাররা যেভাবে টিকে থাক

সদ্যসমাপ্ত মৌসুমটিতে এই ডাচ সুপারস্টার এর পারফর্মেন্স দেখে থাকলে আপনিও একমত হবেন যে, তিনি পুরো মৌসুমজুড়েই ছিলেন প্রাণবন্ত এবং অসাধারণ। এবং সেই পারফর্মেন্সগুলির আধারেই বলা যায় যে, আগের মৌসুমে ফুটবল বোদ্ধাদের করা মন্তব্যগুলিতে কিছুটা হলেও সত্যতা রয়েছে। ভ্যান ডাইক ছিলেন তার লিভারপুল দলের জন্য একজন সত্যিকারের কান্ডারী। দলের হয়ে বিগত মৌসুমে তাই তিনি অর্জন করেছেন মোট ২০টি প্রিমিয়ার লীগ ক্লিন শিট।

এসকল পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, ভার্জিল ভ্যান ডাইকই হলেন ইয়ুর্গেন ক্লপের করা লিভারপুলে সর্বকালের সবচেয়ে সফল ট্রান্সফার।

সেন্টার ব্যাক ২ – এন্তোনিও রুডিগার (চেলসি) [Centre Back 2 – Antonio Rudiger (Chelsea)]

সদ্যসমাপ্ত মৌসুমজুড়ে এন্তোনিও রুডিগারের পারফর্মেন্স বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, আগামী মৌসুমে তার অনুপস্থিতি চেলসি হারে হারে টের পাবে। তবে এটিও দেখার বিষয় যে, কাকে দলে ভিড়িয়ে চেলসি তার জায়গাটি পূরণ করে। চেলসি’র জন্য বিগত সিজনটি বেশ অসন্তোষজনক হলেও, সিজনজুড়ে দলটির হয়ে ভালো পারফর্ম করা কয়েকজনের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রুডিগার।

পুরো যাত্রাটা এমন ছিল না অবশ্য তার জন্য। ফ্র‍্যাংক ল্যাম্পার্ডের অধীনে রুডিগারকে অধিকাংশ সময়ই দেখা গিয়েছিল বেঞ্চে বসে থাকতে, নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায়। সেই সুযোগটি তিনি পান যখন চেলসি’র দায়িত্ব নেন বর্তমান কোচ থমাস টুখেল। বেঞ্চওয়ার্মার থেকে তিনি চেলসি’র তো বটেই, পুরো বিশ্বের সেরা একজন সেন্টার ব্যাকে পরিণত হয়েছেন। 

আর সেই নৈপূণ্যের উপর ভর করেই তার বহুল প্রতিক্ষিত স্বপ্নের ট্রান্সফারটিও সম্পন্ন হয়েছে। হ্যাঁ, আগামী মৌসুমে তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলবেন।

লেফট ব্যাক – জাঁও ক্যান্সেলো (ম্যানচেস্টার সিটি) [Left Back – Joao Cancelo (Manchester City)]

যদিও বিষয়টি তর্কের দাবিদার, তবুও অনেকেই মনে করেন যে, জাঁও ক্যান্সেলো হচ্ছেন বর্তমান কালের সেরা রাইট-ফুটেড লেফট ব্যাক। তার মত ভিন্ন প্রকৃতির ফুল ব্যাক এর চাহিদা অনেক বেশি থাকলেও, তার মত নৈপূণ্যের প্রদর্শন সেই পজিশনে আর কেউ করতে পারেননি।

সেরা রাইট ফুটেড লেফট ব্যাকের তকমাটি অবশ্য অনেক দিন ধরে রেখেছিলেন চেজার আজপিলিকুয়েতা। তবে, গত সিজনে ক্যান্সেলো যেরকম বিচিত্র এবং সফল খেলা উপহার দিয়েছেন তা আজপিলিকুয়েতাও কখনোই প্রদর্শন করতে পারেননি। 

এছাড়া, খেলার চরম বৈচিত্র‍্যের প্রমাণও দিয়েছেন তিনি৷ মৌসুমের একটি বড় অংশজুড়ে সিটি রাইট ব্যাক কাইল ওয়াকার ছিলেন ইঞ্জুরিতে, এবং সেই সময়গুলিতে রাইট ব্যাকেও কভার দিতে হয়েছে ক্যান্সেলোকে। তবে, মৌসুমের বেশির ভাগ সময়ে তাকে লেফট ব্যাক পজিশনেই দেখা গিয়েছে, যে পজিশনটিতে পেপ গার্দিওলা জিনচেংকোর চেয়ে ক্যান্সেলোকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।

যদিও তার উচ্চতা অনেকটাই বেশি, তবুও তিনি সুন্দর করে বল টেনে নিয়ে আক্রমণভাগে যেতে পারেন, এবং দূরপাল্লার একিউরেট শট মারতেও তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। এর সাথে তার অসাধারণ ডিফেন্সিভ দক্ষতা যোগ করলেই দেখা যায় যে, তিনি হলেন ম্যান সিটির জন্য ফুল ব্যাক পজিশনটিতে একটি সম্পূর্ণ প্যাকেজ।

ম্যানচেস্টার সিটির জন্য আগামী মৌসুমেও জাঁও ক্যান্সেলো একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবেই গণ্য হবেন। এছাড়াও, ২০২২ বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়েও তাকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

মিডফিল্ডার ১ – ডেক্লান রাইস (ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড) [Midfielder 1 – Declan Rice (West Ham United)]

গত দুই মৌসুম ধরে ডেক্লান রাইস প্রতিনিয়তই প্রমাণ করে যাচ্ছেন যে, তিনি হচ্ছেন বর্তমান যুগের সেরা ইংলিশ মিডফিল্ডার। ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের মত মিড-টেবিল দলে খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া মোটেও হালকা বিষয় নয়, তবে তিনি তা করে দেখিয়েছেন, এবং ক্লাব ও দেশ উভয়ের হয়েই সেরা পারফর্মেন্স দিয়ে গিয়েছেন।

পড়ুন:  ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে হোসে মরিনহোর সময়: একটি পর্যালোচনা

উয়েফা ইউরো ২০২০ এ নিয়মিত ইংল্যান্ড দলে খেলার পর পুরো ২০২১-২২ মৌসুমে তিনি ওয়েস্ট হ্যামের হয়েও দূর্দান্ত খেলেছেন। এবং, সেই পারফর্মেন্সের জোড়েই তিনি এবছরের বিশকাপেও ইংল্যান্ড দলে জায়গা করে নিবেন এবং নিয়মিত মূল একাদশে থাকবেন বলেই মনে হচ্ছে।

মিডফিল্ডে রাইসের দানবাকার উপস্থিতির কারণেই ওয়েস্ট হ্যাম এবারের মৌসুমেও শীর্ষ দশে থাকতে পেরেছে, এবং আগামী মৌসুমের জন্য ইউরোপীয় ফুটবলও নিশ্চিত করতে পেরেছে। তবে তার চেয়েও বড় প্রাপ্তি হচ্ছে, তার হাত ধরেই ওয়েস্ট হ্যাম তাদের ইতিহাসে প্রথম বারের মত ইউরোপা লীগের সেমি ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছে।

যেহেতু রাইসের ওয়েস্ট হ্যাম দল প্রিমিয়ার লীগ টেবিলের ৭ম স্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছে, তাই তারা আগামী মৌসুমে উয়েফা কনফারেন্স লীগে খেলার সুযোগ পাবে।

ওয়েস্ট হ্যাম যদি আরো উন্নতি করতে চায়, তবে তারা অবশ্যই অনেক বড় বড় দলের বিড উপেক্ষা করে ডেক্লান রাইসকে দলে রাখবে। নতুবা, তাদের দলের পুরো ভারসাম্যটাই নষ্ট হয়ে যাবে। তবে, সাম্প্রতিক খবরাখবর দেখে এমনটিই মনে হচ্ছে যে, চেলসি আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে রাইসকে দলে ভেড়ানোর জন্য। এমনটি যদি হয়, তবে তিনি হবেন চেলসি’র নতুন মালিক টেড বোহলি’র “সিগনেচার সাইনিং”।

মিডফিল্ডার ২ – বার্নার্দো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি) [Midfielder 2 – Bernardo Silva (Manchester City)]

২০২০-২১ মৌসুমটিতে ভালো পারফর্ম করতে ব্যর্থ হোন বার্নার্দো। এরপরই গুজব শুরু হয় যে, তাকে দল থেকে বিতাড়িত করতে চায় ম্যান সিটি। তবে ম্যান সিটি তেমনটি করেনি, এবং গুজবটিতে সম্পূর্ণরূপে পানি ঢেলে দিয়ে ২০২১-২২ মৌসুমে দারুণভাবে কামব্যাক করেন বার্নার্দো। মিডফিল্ডের আরেক কান্ডারী কেভিন ডি ব্রুয়নাঃর সাথে মিলে বার্নার্দো নিশ্চিত করেন যেন প্রতিপক্ষের জালে একের পর এক গোল ঢুকাতেই থাকে ম্যান সিটি। সদ্যসমাপ্ত মৌসুমটিই ছিল সিটির জার্সি গায়ে বার্নার্দো সিলভার সেরা মৌসুম।

২০১৭ সালের গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে পাঁচ বছরে এটি ছিল এই সাবেক মোনাকো মিডফিল্ডারের চতুর্থ প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জয়। 

সিটিজেন বাহিণী থেকে বার্নার্দো সিলভার চলে যাওয়ার সকল গুজব এখন কেবল অতীতের রূপকথা বলেই মনে হয়।

মিডফিল্ডার ৩ – কেভিন ডি ব্রুয়না (ম্যানচেস্টার সিটি) [Midfielder 3 – Kevin De Bruyne (Manchester City)]

এই চমৎকার বেলজিয়ান জাদুকর আবারও প্রমাণ করেছেন যে, তিনি নিজ হাতে ম্যানচেস্টার এর নীল অংশকে ম্যাচের পর ম্যাচ জেতাতে সক্ষম। ম্যানচেস্টার সিটি’র প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন কেভিন ডি ব্রুয়না। সাবেক এই চেলসি খেলোয়াড় গত মৌসুমে মোট আটটি এসিস্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে, তার চেয়েও অবাক করার বিষয় হচ্ছে, তিনি সকল প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ১৯টি গোল করেছেন এই সদ্যসমাপ্ত মৌসুমটি জুড়ে। এটি তার পুরো ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সেরা পারফর্মেন্স। তার করা গোলগুলির মধ্যে থেকে ১৫টি গোল এসেছে শুধুমাত্র প্রিমিয়ার লীগেই।

মৌসুমের সর্বশেষ ম্যাচে এস্টন ভিলা’র বিপক্ষে তার পারফর্মেন্স ছিল চোখ ধাঁধাঁনো, যার উপর ভর করেই ম্যান সিটি নাটকীয়ভাবে শিরোপাটি জিততে পেরেছিল।

রাইট উইংগার – মোহাম্মদ সালাহ্ (লিভারপুল) [Right Winger – Mohamed Salah (Liverpool)]

এখন এটি বললে কয়জন বিশ্বাস করবে যে, যখন এ এস রোমা থেকে লিভারপুল মোহাম্মদ সালাহকে নিজেদের দলে ভেড়ায়, তখন বেশির ভাগ ফুটবল বোদ্ধা এবং ভক্তরাই বলেছিল যে, সালাহই হবে সেই মৌসুমের “ফ্লপ অব দ্য সিজন”? হ্যাঁ, আমরা জানি যে এখন এসে আমাদের মত আপনারাও সেই প্রেডিকশনে হেসে কুল পাচ্ছেন না।

পড়ুন:  লিভারপুল বনাম ম্যানচেস্টার সিটি রিপোর্ট

মোহাম্মদ সালাহ শুধুমাত্র তার খেলা নিয়ে সমালোচকদের সকল দ্বিধাকেই বিতাড়িত করেননি, তিনি নিজেকে একজন প্রিমিয়ার লীগ লিজেন্ড হিসেবে মেলে ধরেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রথম দফায় খেলার সময়গুলির পর থেকে প্রিমিয়ার লীগে এই একমাত্র মোহাম্মদ সালাহই এমন একজন উইংগার হিসেবে এসেছেন যিনি নিয়মিত হারে গোল করে যাচ্ছেন, ম্যাচের পর ম্যাচ, মৌসুমের পর মৌসুম। 

২৩টি গোল নিয়ে এবারের মৌসুমে আবারো প্রিমিয়ার লীগের গোল্ডেন বুট পুরষ্কারটি জিতে নিয়েছেন এই মিশরীয় মেসি খ্যাত ফুটবলীয় জাদুকর।

লেফট উইংগার – হিউং মিন সন (টটেনহ্যাম হটস্পার্স) [Left Winger – Heung Min Son (Tottenham Hotspurs)]

লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহ ২৩টি গোল করে প্রিমিয়ার লীগের গোল্ডেন বুট জিতেছেন ঠিকই, কিন্তু এই সদ্যসমাপ্ত প্রিমিয়ার লীগ মৌসুমে ২৩টি গোল করা খেলোয়াড় কিন্তু তিনি একাই নন। নর্থ লন্ডনে এমন একজন দক্ষিণ কোরিয়ান উইংগার রয়েছেন, যিনি গত মৌসুমে গোলস্কোরিং এর দিক থেকে মোহাম্মদ সালাহকেও টক্কর দিয়েছেন। তার নাম — হিউং মিন সন। ২০২১-২২ প্রিমিয়ার লীগ মৌসুমে তারও গোলসংখ্যা ২৩।

সনের ধারাবাহিক এবং চমকপ্রদ সব পারফর্মেন্সের উপর ভর করেই মূলত টটেনহ্যাম হটস্পার্স বেশ কিছু বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লীগে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। দলটিতে হ্যারি কেইনের পাশাপাশি হিউং মিন সনই এমন একজন খেলোয়াড় যিনি প্রতি মৌসুমেই চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল ডিজার্ভ করেন। বিগত মৌসুমটির বেশির ভাগ জুড়েই হ্যারি কেইন এর ফর্ম ছিল তলানিতে। তবে, সেই সময়গুলিতেও তাদেরকে গোল করা নিয়ে তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি, এবং সেটির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণই হলেন সন। গোল করার পাশাপাশি দলের দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিয়ে খেলার নৈপুণ্যও তিনি প্রদর্শন করেছেন।

সেন্টার ফরোয়ার্ড – ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) [Centre Forward – Cristiano Ronaldo (Manchester United)]

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্ত সমর্থকদের জন্য গত মৌসুমটি ছিল ভুলে যাওয়ার মত একটি মৌসুম। কিন্তু, সব খারাপের মধ্যেও একটি ভালো রয়েছে তাদের জন্য, আর সেটি হলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ভয়ানক একটি মৌসুমে তিনিই ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রধান হর্তাকর্তা। মৌসুমের শুরুতে তাকে নিয়ে ভক্তরা বলাবলি করেছিল যে, “আমাদের রাজা ফিরে এসেছে!” দল ভালো না করলেও তিনি যে আসলেই ওল্ড ট্রাফোর্ডের রাজা, তা কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো খুব ভালো করেই প্রমাণ করে দিয়েছেন।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে তার কামব্যাকের মৌসুমে এই পর্তুগিজ লিজেন্ড রেড ডেভিলদের হয়ে সকল প্রতিযোগিতায় ২৪টি গোল করতে সক্ষম হয়েছেন। তার মধ্যে চার ভাগের তিন ভাগ, অর্থাৎ ১৮টি গোলই এসেছে প্রিমিয়ার লীগে। এছাড়াও, এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগের শীর্ষ ৬ দলের বিপক্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর গোলসংখ্যাই সবার চেয়ে বেশি।

শেষ কথা

প্রিমিয়ার লীগের ২০২১-২২ মৌসুমটি ছিল শ্বাসরুদ্ধকর এবং এক কথায় অসাধারণ। এমন ফুটবলীয় অ্যাকশনই বার বার আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা কেন এই খেলাটিকে এতো ভালোবাসি। 

আর উপরে বর্ণিত তালিকাটির ব্যাপারে বলা যায় যে, ঠিক এক বছর পর আবারও এমন একটি তালিকা নিয়ে আমরা হাজির হবো। তখন দেখা যাবে বর্তমান তালিকার কে কে নিজেদের জায়গাটি ধরে রাখতে পারেন, এবং কোন কোন নতুন সুপারস্টার দলটিতে ঢুকে পড়তে পারেন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত — প্রিমিয়ার লীগের নতুন মৌসুমেও চমক কিন্তু থাকবেই!

Share.
Leave A Reply