...

২০২১-২২ মৌসুমটি শেষ হয়ে এখন বেশ কিছুদিন হয়ে গিয়েছে, এবং গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোটিও পুরোদমে চালু হয়ে গিয়েছে। বরাবরের মতই খেলোয়াড় কেনা বেচার বাজারে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে প্রিমিয়ার লীগের দলগুলোই। এ ব্যাপারে তেমন কেউই অবাক হবেন না যে, প্রিমিয়ার লীগের শীর্ষ দুই দল ম্যানচেস্টার সিটি এবং লিভারপুল ট্রান্সফার উইন্ডোর শুরুতেই তাদের মূল কাজ সেরে নিয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটি যেখানে তাদের স্ট্রাইকার সঙ্কট দূর করার লক্ষ্যে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে কিনে নিয়েছে বর্তমান যুগের সবচেয়ে নামকরা যুবা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ডকে, সেখানে লিভারপুলও তাদের আক্রমণভাগকে আরো শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে দলে ভিড়িয়েছে উরুগুয়ান ফরোয়ার্ড ডারউইন নুনেজকে। দুইটি সাইনিংই ছিল বেশ বড় মাপের, যার মধ্যে লিপ্ত ছিল একটি বড় মাপের ট্রান্সফার ফিও, বিশেষ করে ডারউইন নুনেজ এর ক্ষেত্রে।

এছাড়া, একই সাথে এটিও বলতে হয় যে, এসকল দল ছেড়েও অনেক খেলোয়াড়ই অন্যান্য দলে পাড়ি জমিয়েছেন। ক্লাবের এবং ফুটবল ট্রান্সফার মার্কেটের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই মূলত সকল ক্লাবকেই কিছু খেলোয়াড় বিক্রিও করতে হয়। লিভারপুল থেকে বায়ার্ন মিউনিখে পাড়ি জমিয়েছেন সেনেগালিজ সুপারস্টার সাদিও মানে। প্রিমিয়ার লীগ থেকে চলে যাওয়া খেলোয়াড়ের তালিকায় নিঃসন্দেহে তিনিই সবার উপরে থাকবেন, কারণ লিভারপুলের সাম্প্রতিক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার পেছনে তিনিই ছিলেন অন্যতম নিয়ামক শক্তি। 

সমালোচনার তুমুল ঝড়ের মধ্যে এবং নানারকম প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও চেলসি স্ট্রাইকার রমেলু লুকাকু একটি লোন ডিলে আবারও ইতালিয়ান দল ইন্টার মিলানে ফিরে গিয়েছেন। এটি এমন একটি ট্রান্সফার ডিল যেটি চেলসি সমর্থকরা তো বটেই, চেলসির সকল কর্মকর্তাও খুব জলদি ভুলে যেতে চাইবেন।

এসকল বড় বড় নাম ছাড়াও এবারের ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রিমিয়ার লীগের শীর্ষ দলগুলির বেশ কিছু শীর্ষ খেলোয়াড়ই অন্য দলে পাড়ি জমাতে পারেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু প্রিমিয়ার লীগের বড় দলেরা নিজেদের মধ্যে খেলোয়াড় কেনা বেচা করা খুব একটা পছন্দ করেন না বলেই আমরা জানি, সেহেতু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসকল ইন-ডিমান্ড খেলোয়াড়েরা তাদের বর্তমান লীগের বাইরেই পাড়ি জমাবেন, এটিই স্বাভাবিক। তবে ট্রান্সফার গুজব বা বিশ্বস্ত বিভিন্ন সূত্রের মোতাবেক জানা গিয়েছে যে, এবারের ট্রান্সফার উইন্ডোতে অনেক প্রিমিয়ার লীগ দলই তাদের এই প্রথা থেকে সরে আসতে রাজি হয়েছেন, এবং প্রিমিয়ার লীগের বড় দলগুকির মধ্যেও আমিরা এবার খেলোয়াড় আদান প্রদান দেখতে পারি বলেই আশা করা যাচ্ছে। এই নিবন্ধটিতে আমরা এমন সকল ধরণের খেলোয়াড়দের নামই আমলে নিব।

১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (বর্তমান দল – ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) [1. Cristiano Ronaldo (Current team – Manchester United)]

“ঘরের সন্তান ঘরে ফিরছে” এমন শিরোনামেই গত মৌসুমের শুরুতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো অনেক আশা প্রত্যাশার বোঝা ঘাড়ে নিয়ে প্রায় ১৪ বছর পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরে আসেন। দর্শকদের এবং মিডিয়া তাকে সাদরে গ্রহণ করে নেয়, এবং তার আপ্যায়নেও তারা কোনই কমতি করে না। তার আগের মৌসুমেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রিমিয়ার লীগ টেবিলের ২য় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে এবং ইউরোপা লীগের ফাইনালের পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তাই, যখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ফিরে এসেছিলেন, তখন সবাই ভেবেছিল যে তিনিই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে তাদের দরকারী সেই শক্তিমত্তাটি জোগাবেন, যার উপর ভর করে তারা আবার সব ধরণের শিরোপার দৌড়ে ফিরে আসবে।

এরপর যদি আমরা ফাস্ট ফরোয়ার্ড করে বর্তমানে ফিরে আসি, তাহলে দেখা যাবে যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সেসকল পরিকল্পনার কোনটিই বাস্তবে রূপ নিতে পারেনি। যদিও রোনাল্ডোই ছিলেন রেড ডেভিলদের পক্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও বিখ্যাত ম্যাট বাসবি প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার পুরষ্কারের বিজয়ী, এবং ব্যক্তিগত দিক থেকে তার জন্য মৌসুমটি ততটাও খারাপ ছিল না, তবুও দলগত দিক থেকে বিগত মৌসুমটি তার জন্য ছিল চিরতরে ভুলে যাওয়ার মতই একটি মৌসুম। সদ্য সমাপ্ত সেই মৌসুমটিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অর্জিত পয়েন্ট এর পরিমাণটি ছিল প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে দলটির দ্বারা অর্জিত সবচেয়ে কম (৫৮), যা তাদের সম্পূর্ণ ফ্যানবেস এর জন্যই বেশ লজ্জাজনক।

এখন, নানা খবরের মতে, এই ৩৭ বছর বয়সী বিশ্বখ্যাত তারকা ট্রান্সফার মার্কেটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নন, কারণ তাদের নতুন হেড কোচ এরিক তেন হাগ এখনও পর্যন্ত কোন নতুন সাইনিংকে দলে ভেড়াতে পারেননি।

অতি সম্প্রতিই খবরের কাগজে নিয়মিত একটি ট্রান্সফার আপডেট দেখা যাচ্ছিল, যেখানে বলা হচ্ছিল যে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ হয়তো রোনাল্ডোকে নিজেদের দলে চায়। কিন্তু, ক্লাবটি কিছুদিন আগেই এ ব্যাপারে স্পষ্ট করেছে যে তাদের পরিকল্পনায় এমন কিছু আসলেও নেই। তার সাবেক ক্লাব দুইটি, অর্থাৎ রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসও রোনাল্ডোকে পুনরায় দলে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, কিন্তু এবারের মৌসুমেই তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে চলে যাওয়াটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেকের মতেই এই ট্রান্সফার গুজবটিতে একদমই কোন কোন সত্যতা নেই। তবে, তার জন্য ট্রান্সফার বিড আসুক বা না আসুক, ফিরে আসার পর মাত্র এক বছর ক্লাবটিতে কাটানোর পরেই তিনি দল ছেড়ে চলে যেতে চাইলেও, এমনটি আসলে হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এই পর্তুগিজ সুপারস্টার এর জন্য এমএলএস লীগ থেকেও নানা ধরণের অফার এসে জমা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে, যেহেতু প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল তিনি আরো অনেকদিন ধরে খেলতে চান এবং শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের মাঝে থেকে তিনি নিজেকে সচল রাখতে চান, সেহেতু তার জন্য এমএলএস লীগে পাড়ি জমানোটা খুবই কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার হবে। তবে, যেহেতু তার সাপ্তাহিক বেতনের পরিমাণ অনেক বেশি, তাই ম্যানচেস্টার সিটি বা পিএসজি’র মত ক্লাব ছাড়া কেউই হয়তো তাকে দলে নিতে সক্ষম হবে না। এখানে দুশ্চিন্তার কারণ হল এই যে, ম্যান সিটি বা পিএসজি’র মধ্যে কারোরই এখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে দলে নেওয়ার কোন দরকার নেই বললেই চলে। তিনি যদি নিজে থেকেই তার সাপ্তাহিক বেতনটি ছেঁটে না ফেলেন, তাহলে পর্তুগালের কোন পরাশক্তিই এত উঁচু ট্রান্সফার ফি ব্যয় করে রোনাল্ডোকে দলে ভেড়াতে পারবে না, এবং তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে সেই ম্যানচেস্টার সিটি বা পিএসজিই থেকে যাবে, যাদের দলে তার কোন প্রয়োজনই নেই।

২. রাফিনহা (বর্তমান দল – লিডস ইউনাইটেড) [2. Raphinha (Current team – Leeds United)]

লিডস ইউনাইটেডের হয়ে একটি সন্তোষজনক ২০২১-২২ মৌসুম পার করার পর ব্রাজিলিয়ান রাইট উইংগার রাফিনহা এখম রয়েছেন চাহিদার শীর্ষে। স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার পাশাপাশি প্রিমিয়ার লীগের বেশ কিছু বড় বড় দল তাকে দলে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম হল আর্সেনাল, চেলসি ও টটেনহ্যাম হটস্পার্স। বিভিন্ন সূত্রের অনুসারে, এই ২৫ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় চান বার্সেলোনায় যীগ দিতে, কিন্তু যেহেতু তাদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, তাই মনে হচ্ছে রাফিনহাকে হয়তো প্রিমিয়ার লীগের দলগুলির মধ্যেই একটিকে বেছে নিতে হবে।

লিডস ইউনাইটেড তাদের দামী এই এসেটটির জন্য অবশ্যই অনেক বড় দাম হাকাবে সেটিই স্বাভাবিক, যা ধারণা করা হচ্ছে ৬০ মিলিয়ন ইউরোর আশেপাশে। বার্সেলোনার সর্বশেষ বিড ছিল ৪৫ মিলিয়ন ইউরোর, এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, তার চেয়ে বেশি তারা আর অফার করতে পারবে না। তাই, এখন ধারণা করা হচ্ছে যে, ট্রান্সফার মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই রাফিনহার জন্য একটি ত্রিভুজ লড়াই শুরু হতে পারে লন্ডনের তিন ক্লাব চেলসি, আর্সেনাল ও স্পার্সের মধ্যে।

যখন এই নিবন্ধটি লেখা হচ্ছে, তখন আর্সেনালই বাকি সবার চেয়ে এগিয়ে আছে রাফিনহাকে দলে নেওয়ার লড়াইয়ে, কিন্তু এখনো তারা লিডস এর চাওয়া দাম থেকে অনেক দূরেই অবস্থান করছে বলে জানা গিয়েছে। শেষ হাসি কে হাসবে তাই এখন জানার বিষয়।

৩. রহিম স্টার্লিং (বর্তমান দল – ম্যানচেস্টার সিটি) [3. Raheem Sterling (Current team – Manchester City)]

যেহেতু তার ক্লাবটিতে আরো বেশ কিছু অ্যাটাকিং অপশন যোগ করা হয়েছে (আর্লিং হাল্যান্ড, জুলিয়ান আলভারেজ প্রমুখ), সেহেতু এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে যে ম্যানচেস্টার সিটিতে রহিম স্টার্লিং এর সময় এবার শেষ। ২৭ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান উইংগার প্রায় ৬ বছর ধরে সিটিতে রয়েছেন, তবে সিটি ভক্তদের মনে এখনো তিনি সম্পূর্ণভাবে জায়গা করে নিতে পারেননি, যার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ধারণা করা হচ্ছে — সহজ সহজ গোলের সুযোগ মিস করা। সিটি’র সাথে করা তার চুক্তিতে আর মাত্র একটি বছরই বাকি রয়েছে, এবং তিনি এর আগেও মিডিয়ার সামনে বলেছেন যে, ভালো কোন সুযোগ আসলে তিনি ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়তেও পারেন।

এটি মাথায় রেখে যে তিনি একজন লাভবান খেলোয়াড় এবং এছাড়াও তিনি একজন হোমগ্রোন খেলোয়াড়ও বটে, ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্যই তাকে একেবারে কম মূল্যে ছাড়বে না। এতকিছু মাথায় রেখে পেপ গার্দিওলা অবশ্যই চাইবেন যেন চলতি উইন্ডোতেই স্টার্লিংকে বিক্রি করে কিছু টাকা কামিয়ে নেওয়া যায়, এবং যাতে আগামী গ্রীষ্মে তাকে বিনামূল্যে ছেড়ে দিতে না হয়। 

রহিম স্টার্লিংকে দলে নেওয়ার লড়াইয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে চেলসি, কারণ দলটির নতুন মালিক এবং ট্রান্সফারের দায়িত্বে থাকা টড বোহলি এই ইংলিশ উইংগারকে এবারের ট্রান্সফার উইন্ডোতে তার শীর্ষ টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রের মোতাবেক, ম্যান সিটি স্টার্লিং মূল্য নির্ধারণ করেছে কমপক্ষে ৫০ মিলিয়ন ইউরো, এবং তার এক পয়সা নিচেও অফার আসলে তারা সম্মতি প্রদান করবে না। তাই, চেলসি’র হাতেই এখন সুযোগ সিটির যাচিত মূল্যটি পরিশোধ করে এই গতিশীল উইংগারকে তাদের দলে নেওয়ার।

৪. গ্যাব্রিয়েল জেসুস (বর্তমান দল – ম্যানচেস্টার সিটি) [4. Gabriel Jesus (Current team – Manchester City)]

রহিন স্টার্লিং যে কারণে ম্যান সিটি ছাড়তে বদ্ধপরিকর, গ্যাব্রিয়েল জেসুসও ঠিক সে কারণেই ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়তে চাচ্ছেন। নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড আর্লিং হাল্যান্ড এবং আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজ ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ায় গ্যাব্রিয়েল জেসুস দলটির খেলোয়াড়দের তালিকায় আরো নিচে নেমে গিয়েছেন, অর্থাৎ নিয়মিত প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ তিনি আর পাবেন না বলেই ধারণা করা যাচ্ছে। 

যেহেতু মাত্র ২৫ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল জেসুস এখন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভালো বা সুখকর সময়ে প্রবেশ করছেন এবং প্রিমিয়ার লীগে তার ইতিমধ্যে বেশ কিছু বছরের অভিজ্ঞতাও রয়েছে, তাই গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দলে পাওয়ার লড়াইয়ে লিপ্ত হতে যাচ্ছে প্রিমিয়ার লীগেরই বেশ কিছু বড় মাপের দল, যেমন চেলসি, আর্সেনাল ও টটেনহ্যাম হটস্পার্স। এছাড়া, ইংল্যান্ডের বাইরে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাসও তার ব্যাপারে তদারকি করেছে। তবে, এমনটাই ধারণা করা যাচ্ছে যে, তাকে পাবার দৌড়ে আর্সেনালই এখন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

আর্সেনালের বর্তমান কোচ মিকেল আর্তেতা পূর্বে ম্যানচেস্টার সিটিতে পেপ গার্দিওলার এসিস্ট্যান্ট কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন, এবং সেই সূত্রে গ্যাব্রিয়েল জেসুস এর সাথেও তার পূর্ববর্তী সম্পর্ক রয়েছে, যা এই ট্রান্সফারটি সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।

নানা সূত্রের অনুসারে এমনটিও জানা গিয়েছে যে, ম্যানচেস্টার সিটি এবং আর্সেনালের মধ্যে ৪৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি ফি নির্ধারণও হয়ে গিয়েছে জেসুসের জন্য, এবং উভয় পক্ষই এখন ট্রান্সফারটি নিয়ে খুশি। এ ব্যাপারে অফিসিয়াল ঘোষণা খুব শীঘ্রই জানা যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

৫. মোহাম্মদ সালাহ্ (বর্তমান দল – লিভারপুল) [5. Mohamed Salah (Current team – Liverpool)]

প্রথম দেখায় মনে হতে পারে যে, মোহাম্মদ সালাহ্ লিভারপুল ছাড়বেন, এটিও কি সম্ভব? বিশেষ করে এমন একটি সময়ে, যখন লিভারপুল তাদের আক্রমণভাগের এক কান্ডারি সাদিও মানেকেও হারিয়েছে, তখন কি তারা মোহাম্মদ সালাহ্কে দল থেকে বিদায় নিতে দিবে? আরেকটু গভীরে গেলেই বোঝা যায় যে, মোহাম্মদ সালাহ্ যদি লিভারপুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেনও, তা তার জন্য হবে একটি যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত। 

লিভারপুলের দিক থেকে দেখলে, অবশ্যই একই ট্রান্সফার উইন্ডোতে দুইজন সুপারস্টার ফুটবলারকে হারানো তাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক ও অপুরণীয় হবে। যদিও মোহাম্মদ সালাহ্ নিজেই মিডিয়ার সামনে বলেছেন যে তিনি অল রেডস’দের হয়ে অন্তত আরও একটি মৌসুম খেলবেন, তবুও লিভারপুলের নিজেদের ভালোর জন্যই হয়তো সালাহকে তাদের বিক্রি করে দেওয়া উচিৎ।

সালাহ্ বর্তমানে লিভারপুলে ২৪০,০০০ ইউরোর সাপ্তাহিক বেতন পান, যা ভার্জিল ভ্যান ডাইক (লিভারপুলের সর্বোচ্চ বেতনধারী) এর সাপ্তাহিক বেতনের থেকে কিছুটা কম। তবে এমনটি শোনা যাচ্ছে যে, মোহাম্মদ সালাহ্ এর খ্যাতি বৃদ্ধির সাথে সাথে তার চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এখন ৪০০,০০০ ইউরোর সাপ্তাহিক বেতন চাচ্ছেন লিভারপুল কর্তৃপক্ষের কাছে। অবশ্য তার এই চাহিদাটি তার করা সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের একদমই বিপরীত, যেখানে তিনি বলেছেন যে লিভারপুলে থাকার জন্য আকাশচুম্বী কোন বেতন তার দরকার নেই।

সত্যি বলতে গেলে, আমাদেরও মনে হয় যে মোহাম্মদ সালাহ্ এর এমন দাবি করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে তার পারফর্মেন্সের উপর ভিত্তি করে। কিন্তু, লিভারপুলের দিক থেকে দেখলেও আমরা মনে করি যে, তারা যদি ৩০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়কে (যিনি হয়তো আর বেশি দিন ফুটবলের সর্বোচ্চ লেভেলে খেলতে পারবেন না) এত বেতন না দিতে চান, তবে সেটিও বেশ যুক্তিসঙ্গত। সালাহ্ এর চাহিদা যদি তারা মেনে নেন এবং তাকে ৪০০,০০০ ইউরোর সাপ্তাহিক বেতন প্রদান করেন, তাহলে লিভারপুল তাদের ক্লাবটির বেতন কাঠামো সম্পূর্ণরূপে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে, এবং সেটির একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ক্লাবটির উপর পড়তে পারে। এর পর থেকে দেখা যাবে যে, যখনই তাদের কোন খেলোয়াড় ভালো পারফর্ম করবেন, তখনই এমন আকাশচুম্বী বেতন চেয়ে বসবেন।

যেহেতু লিভারপুলের সাথে মোহাম্মদ সালাহ্ এর করা চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছরই রয়েছে, সেহেতু ৬০ মিলিয়ন ইউরোর কাছাকাছি ট্রান্সফার ফি পেলে লিভারপুল তাকে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও নিতে পারে। তবে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন সম্ভাবনাই বেশি যে, উভয়পক্ষ একটি সমঝোতায় চলে আসবেন, এবং মোহাম্মদ সালাহ একটি নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে লিভারপুলেই অবস্থান করবেন।

Share.

Leave A Reply

Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.