ভূমিকা (Introduction)

বিংশ শতাব্দীর তুলনায় বর্তমানে যেকোন স্পোর্টসই অনেক বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন, উত্তেজনাময় এবং এক কথায় অনেকটাই অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। ফুটবলের ক্ষেত্রেও এই কথাটি যথাযথভাবে প্রযোজ্য। দশকের পর দশক পার হয়েছে, এবং এখন এসে ফুটবল একটি কৌশল-নির্ভর এবং একশন-প্যাকড খেলায় পরিণত হয়ে গিয়েছে। আপনি যদি এই অসীম সুন্দর খেলাটির ট্যাকটিকাল দৃষ্টিকোণ সম্পর্কে কিছুটাও জেনে থাকেন, তাহলে আপনি বুঝবেন যে, খেলাটির পরতে পরতে রয়েছে নানারকম মারপ্যাঁচ এবং বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের সুযোগ। আর আপনি যদি সেসব সম্পর্কে নাও জেনে থাকেন, তবুও কোনই সমস্যা নেই। আমরা আপনার জন্য সহজ ভাষায় তুলে ধরব ফুটবলের এমন কিছু গভীর এবং সুদুরপ্রসারি আলোচ্য বিষয়কে, যেগুলির উপর করেই আজ খেলাটি তার বর্তমানের স্থানে পৌঁছাতে পেরেছে।

এমনি একটি সুন্দর ফুটবলের উদাহরণ হল ডাচ কিংবদন্তি ফুটবলার ইয়োহান ক্রুইফের ফুটবলীয় মতবাদ। তার এবং তার দলের ফুটবল খেলার একটি বিশেষ কায়দা ছিল, যাকে ফুটবল মহলে টোটাল ফুটবল হিসেবে বিখ্যাত। পরবর্তী সময়ে তার সেই ফুটবল দর্শন অনেকেই অনুসরণ করতে চাইলেও খুব কম সংখ্যক কোচরাই তা সফলভাবে করতে পেরেছে। এমনি দুইজন কোচ হলেন বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দায়িত্বরত দুই ম্যানেজার (যথাক্রমে) পেপ গার্দিওলা এবং এরিক তেন হাগ। চলুন তাদের ক্রীড়াকৌশল এর দিকে এক নজর তাকানো যাক। তাহলেই আপনারা টোটাল ফুটবল সম্পর্কে আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

ক্রুইফিজমঃ একটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবলীয় প্রক্রিয়া (Cruyffism: A Footballing Phenomenon)

ক্রুইফিজম সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই জানতে হবে যে এই টার্মটি কোথা থেকে এসেছে। ক্রুইফিজম কথাটি এসেছে ফুটবল ইতিহাসের সর্বাকালের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন “ইয়োহান ক্রুইফ” এর নাম থেকে, যার সম্পর্কে আমরা খুব শীঘ্রই বিস্তারিত জানব। 

ক্রুইফিজম হল টোটাল ফুটবলের নবীনতম এবং সবচেয়ে আধুনিক একটি শাখা। এই টোটাল ফুটবলের প্রথম আবিষ্কারক ছিলেন ইয়োহান ক্রুইফেরই ডাচ শিক্ষক রাইনাস মিশেল। তবে, ঠিকভাবে এই পদ্ধতিটিকে মাঠে প্রথমবারের মত প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন সেই ক্রুইফই।

মূলত, টোটাল ফুটবলের মূলমন্ত্রই হল বল পজিশন এর উপর ভিত্তি করে চরম আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা। এখানে একটি দল চেষ্টা করে যায় বলের পজিশন নিজেদের দখলে রেখে খেলার টেম্পো সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে। ক্রুইফিজম এবং টোটাল ফুটবলের পুরোটা জুড়েই রয়েছে আন্তঃপরিবর্তনশীল পজিশন, ওয়ান টাচ পাসিং, ত্রিকোণ তৈরি করে পাসিং, এবং শূন্যস্থান তৈরি করে সেদিক দিয়ে আক্রমণে যাওয়া।

বর্তমান সময়ে এসে দেখা যাচ্ছে যে, এটিই হচ্ছে ফুটবল খেলার সবচেয়ে সফলতম উপায় বা পদ্ধতি, এবং দর্শক বা সমর্থকদের জন্যও এই খেলার স্টাইলটি বেশ উপভোগ্যই বটে। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি পেপ গার্দিওলা বা লুইস এনরিকে’র অধীনে বার্সেলোনার ক্রীড়াকৌশল এর কথা। কতই না মোহনীয় এবং সুন্দর ছিল তাদের খেলার কৌশল! প্রতিবার তাদের খেলা দেখে দর্শকরা তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকতেন। তাদের অনবদ্য ক্রীড়াকৌশল এর উপর ভর করে তারা বিশ্বের বা ইউরোপের সকল বড় বড় দলগুলিকে তুলোধুনো করতেও সক্ষম হয়েছিলেন।

ইয়োহান ক্রুইফ কে ছিলেন? (Who was Johann Cruyff?)

ইয়োহান ক্রুইফ ছিলেন এমন একজন খেলোয়াড় যিনি ফুটবলের স্বর্ণযুগ অর্থাৎ ১৯৭০ এর দশকে বিশ্ব কাঁপিয়েছিলেন। বল পায়ে এই তিন বারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ফুটবলার ছিলেন একনিষ্ঠ একজন জাদুকর। তিনি তার ক্লাব ক্যারিয়ারে তার প্রাণের দুই ক্লাব বার্সেলোনা এবং আয়াক্সের হয়েই সকল সাফল্য অর্জন করেন। তার অধিকাংশ ক্ষমতা ও দক্ষতা তিনি অর্জন করেছিলেন এই দুইটি ক্লাবে খেলার সময়েই। তাছাড়া নেদারল্যান্ডস এর জাতীয় দলের হয়েও তিনি এনেছিলেন বিপ্লব। একজন দূর্দান্ত ও অনবদ্য খেলোয়াড় হলেও ইয়োহান ক্রুইফকে আরো বেশি মানুষ চেনেন একজন যুগান্তকারী ম্যানেজার বা কোচ হিসেবেই। 

পড়ুন:  আর্টেটা তার ক্যারিয়ারের 'সবচেয়ে বড়' খেলায় তার কৌশলগত দক্ষতা দেখাতে হবে

ক্রুইফ প্রভাবিত হয়েছিলেন সে সময়ে তার শিক্ষক রাইনাস মিশেল এর দ্বারা, এবং তার নিজস্ব কোচিং জীবন শুরু করার পর তিনি মিশেলের স্টাইলের উপর ভিত্তি করে নিজস্ব একটি পজিশন-নির্ভর গেমপ্ল্যান তৈরি করে নেন, যা ৮০ ও ৯০ এর দশকে অনেক বেশি সুনামও কুড়িয়েছিল। আয়াক্স এবং বার্সেলোনা উভয় ক্লাবেই ক্রুইফ তার পদচিহ্ন ছেড়েছিলেন, যে পদচিহ্ন পরবর্তীতে প্রচুর খেলোয়াড় এবং কোচ বা ম্যানেজাররাই অনুসরণ করেছেন। 

ক্রুইফের অনুসারীদের মধ্যে এমন দুইজন মহারথী তার মৃত্যুর পরেও রয়ে গিয়েছেন যারা নিজেদের ঘাড়ে করে তার লেগ্যাসি সামনের দিকে নিয়ে চলেছেন। হ্যাঁ, আমরা পেপ গার্দিওলা এবং এরিক তেন হাগের কথাই বলছি।

পেপ গার্দিওলা বনাম এরিক তেন হাগঃ ইতিহাসের পাতায় এক নজর (Pep Vs Ten Hag: A look back at history)

বিশ্বের সবচেয়ে উত্তম ফুটবল লীগ অর্থাৎ প্রিমিয়ার লীগের সবচেয়ে বড়সড় দুটি দলের দায়িত্বে রয়েছেন পেপ গার্দিওলা এবং এরিক তেন হাগ। যেখানে গার্দিওলা এই লীগটিতে প্রচুর শিরোপা ও সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে একজন পরীক্ষিত ম্যানেজারে পরিণত হয়েছেন, সেখানে এরিক তেন হাগ কেবলমাত্র ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন। আয়াক্সে থাকাকালীন সময়ে অবশ্য তিনি শুধুমাত্র উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ ব্যতীত সব ধরণের শিরোপার স্বাদই পেয়েছেন। একজন টেকনিক্যাল জিনিয়াস এবং আধুনিক ম্যানেজার হিসেবে তার প্রতিভা রয়েছে অপরিসীম। আসুন, এক নজর দেখে নেওয়া যাক ২০২২ সালের আগে পর্যন্ত এই দুই মহারথীর যাত্রা।

১. পেপ গার্দিওলা (1. Pep Guardiola)

শুধুমাত্র এই কিংবদন্তি ম্যানেজারকে তার প্রাপ্য সম্মানটি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই আমরা তাকে নিয়েই প্রথমে আলোচনা করছি। পেপ গার্দিওলা একজন সত্যিকারেরই কিংবদন্তি, বিশেষ করে যখন আপনি খেয়াল করবেন যে কত কম বয়সে তিনি কতকিছু জিতে নিয়েছেন। তার শুরুটি হয়েছিল ২০০৮ সালে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে। তখন তিনি ম্যানেজার হিসেবে একদমই কোন পরিচিত মুখ ছিলেন না, বরং ছিলেন একজন অপরীক্ষিত সম্ভাবনার নাম। সেসময় বার্সেলোনা ছিল একটি নতুন যুগের শুরুতে, যে যুগে তাদের পতাকা ছিল লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি হার্নান্দেজ, কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, সার্জিও বুসকেটস, ড্যানি অ্যালভেজ ও ডেভিড ভিয়া’র মত খেলোয়াড়দের হাতে। এসকল খেলোয়াড়দের শুধু দরকার ছিল পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনার, এবং তাহলেই তারা বিশ্বজয় করতেও সক্ষম হতো। তাদেরকে সেই দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন পেপ গার্দিওলা। সেই কাজটিও তিনি করেছিলেন কি অপরূপ ভঙিমায়। তার অধীনে প্রথম মৌসুমেই বার্সেলোনা লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লীগসহ জিতে নেয় ছয় ছয়টি শিরোপা। পুরো ইউরোপকে তিনি এভাবেই তার ‘তিকি-তাকা’ ফুটবল দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

পড়ুন:  নটিংহ্যাম ফরেস্ট বনাম এএফসি বোর্নমাউথ প্রিভিউ এবং প্রেডিকশন - ০৩/০৯/২০২২

এর পরে পেপ গার্দিওলা পাড়ি জমান জার্মান রাজধানীর ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে। সেখানেও তিনি একের পর এক সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতার পূর্বেই তিনি যোগ দেন ইংলিশ দল ম্যানচেস্টার সিটিতে। সিটিজেনদের হয়ে তিনি ইতিমধ্যে চারটি প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জিতে নিলেও এখনও তাদের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপাটি জিতিয়ে দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন।

এক কথায় বলতে গেলে, পেপ গার্দিওলাকে গত ১৪ বছর ধরেই বহু কোচ বা ম্যানেজার অনুকরণ করবার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তার মত সাফল্য বা ধারাবাহিকতা তারা কেউই অর্জন করতে পারেননি।

২. এরিক তেন হাগ (2. Erik Ten Hag)

এরিক তেন হাগ ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখে পেপ গার্দিওলা’র ম্য্যানেজিং বা কোচিং দলের অংশ এবং বরাবরই তিনি গার্দিওলার কোচিং স্টাইলের একজন ছাত্র হিসেবেই পরিচিত। যখন এরিক তেন হাগ তার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি মিডিয়ার সামনেই বলেছিলেন যে, তিনি পেপ গার্দিওলা’র দ্বারা অনেক বেশি প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত, এবং তার নিজস্ব প্লেয়িং স্টাইলের উপর পেপ গার্দিওলা’র অনেক বড় হাত রয়েছে।

তেন হাগের উপর সারা বিশ্বের স্পটলাইট পতিত হতে শুরু করে যখন তিনি ২০১৭ সালে আয়াক্স আমস্টারডাম এর হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দলটির ফুটবল দর্শনে গার্দিওলা’র মতই একটি পাসিং বা পজিশন নির্ভর ক্রীড়াকৌশল প্রয়োগ করেন, এবং খুব কম সময়ের মধ্যেই সাফল্য পেতে শুরু করেন। 

আয়াক্সের কোচ হিসেবে তেন হাগ সর্বমোট ১২৮ ম্যাচের দায়িত্বে ছিলেন এবং তার মধ্যে তিনি ১০০টি ম্যাচেই জয় হাসিল করতে পেরেছিলেন। তার অধীনে আয়াক্স যেমন আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করতে শুরু করেছিল তা প্রায় ২ দশক পরে আমস্টারডামে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিল। শুধু ডাচ এরিদিভিসি শিরোপাই নয়, এরিক তেন হাগের অধীনে আয়াক্স উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের সেমি ফাইনালেও পৌঁছে গিয়েছিল। সেবারের যাত্রায় পথিমধ্যে তারা রিয়াল মাদ্রিদের মত দলকেও তারা শুধু হারায়ইনি, বরং তুলোধুনো করে ছেড়েছে। সেটির পেছনেও হাত ছিল তেন হাগের অসাধারণ ট্যাকটিকাল ব্রিলিয়ান্সের।

২০২২ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচ বছরে তিনি ৩টি এরিভিদিসি শিরোপাসহ মোট ৬টি শিরোপা এনে দিয়েছেন আয়াক্সকে।

দু’জনের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য (The differences)

এ পর্যন্ত আমরা পেপ গার্দিওলা এবং এরিক তেন হাগের মধ্যকার সাদৃশ্যতা নিয়েই শুধু আলোচনা করেছি। কিন্তু, তাদের মধ্যে অবশ্যই কিছু পার্থক্যও বিদ্যমান রয়েছে। আমরা আবারও এ ব্যাপারটি স্পষ্ট করছি যে, পেপ গার্দিওলার ভাবমূর্তির আশেপাশেও এখনো পৌঁছাতে পারেননি এরিক তেন হাগ, তবে তাদের মধ্যকার কিছু পার্থক্য বাদ দিলে তাদের মধ্যে অনেকগুলি সাদৃশ্যই খুজে পাওয়া যায়।

দুজনেই পজিশনাল এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে পছন্দ করেন, কিন্তু দু’জন সাধারণত তাদের দলগুলিতে দুইটি ভিন্ন ফর্মেশন ব্যবহার করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে পেপকে তার ফর্মেশনে বৈচিত্র্য আনতে দেখা গেলেও বেশির ভাগ সময়ই তিনি ৪-৩-৩ ফর্মেশনটি ব্যবহার করে থাকেন। এই ফর্মেশনটি তার ফুটবল দর্শনের সাথে অতপ্রতভাবে জড়িত এবং এটির মাধ্যমেই তিনি তার উইংগারদের ঠিকমত কাজে লাগাতে পারেন, এবং মাঠের প্রস্থতাকেও কাজে লাগাতে পারেন। 

পড়ুন:  আর্সেনাল কি পরের মরসুমে এখনও শক্তিশালী হবে?

অন্যদিকে, এরিক তেন হাগকে বেশির ভাগ সময়ই ৪-২-৪ ফর্মেশনটি ব্যবহার করতে দেখা যায়, যা কি না আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ফর্মেশন হিসেবে পরিচিত। এখানেও দলের আক্রমণভাগ এর উপরেই মূল ফোকাসটি থাকে, এবং দুই পাশের উইং দিয়েই বেশির ভাগ আক্রমণ সামনে আগায়।

আমরা চাইলে এই ট্যাকটিকাল আলোচনাটি ঘন্টার পর ঘন্টা চালিয়ে যেতে পাতব, কিন্তু চলুন, এখনকার মত আমরা সামনে আগাই।

এখন থেকে ম্যান সিটি বনাম ম্যান ইউনাইটেড ম্যাচটি কেমন আকৃতি ধারণ করবে? (How City Vs United will shape up from now on)

গত দশকের বেশির ভাগ জুড়েই ম্যানচেস্টার সিটি ইংলিশ ফুটবলে এক ধরণের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছে। এর পেছনে একটি মুখ্য কারণ হল ২০১৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে তাদের দীর্ঘকালীন কোচ স্যার আলেক্স ফার্গুসনের বিদায় নেওয়া। তখন থেকে আজ পর্যন্ত ১০ বছর কেটে গিয়েছে, কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাব হিসেবে এখনো কোনপ্রকার স্থিতিশীলতাই অর্জন করতে পারেনি।

এমতাবস্থায় ম্যানচেস্টারের অপর প্রান্তে তাকালেই দেখা যায় যে, সেখানে পেপ গার্দিওলা তার ক্লাব ম্যানেজমেন্ট এর অসাধারণ দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে বেশ কয়েকটি প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জিতিয়ে ফেলেছেন।

বেশ কিছু ভালো ভালো ও নামকরা ম্যানেজার নিয়োগ করে ব্যর্থ হওয়ার পর (যার মধ্যে অন্যতম হলেন হোসে মোরিনহো এবং লুইস ভ্যান গাল প্রমুখ) এখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্বপ্ন দেখছে তেন হাগের হাত ধরে একটি দীর্ঘকালীন সময় ধরে সাফল্যের স্বাদ পাওয়ার। এবং এ ব্যাপারে কোনই সন্দেহ নেই যে ক্লাবটির বোর্ডের নিকট হতে যথেষ্ট সাপোর্ট পেলে তেন হাগ তা অর্জনে সক্ষম হবেন।

যেহেতু আমরা ইতিমধ্যে পেপ গার্দিওলা এবং এরিক তেন হাগের মধ্যকার নানান সাদৃশ্য এবং ম্যানেজার হিসেবে তাদের উভয়ের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেছি, তাই এখন শুধু দেখার অপেক্ষা যে আগামী মৌসুম/মৌসুমগুলিতে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কি কি গেমপ্ল্যান ব্যবহার করেন।

২০২২-২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগ নিয়েই আসলেই এখন সবার মাঝেই মার মার কাট কাট উত্তেজনা।

শেষ মন্তব্য (Closing sentences)

যদিও আমাদের আলোচনাটি বেশ ট্যাকটিকাল হয়ে পড়েছিল, তারপরও এটি মানতেই হবে যে, এমন দক্ষ ও পারদর্শী ম্যানেজারদের নিয়ে এবং তাদের অসাধারণ ফুটবল দর্শন নিয়ে যতই আলাপ করা হোক তা যথেষ্ট নয়। পেপ গার্দিওলা অবশ্যই সর্বকালের সেরা ফুটবল ম্যানেজারদের মধ্যে একজন হিসেবেই গণ্য হবেন। আর এরিক তেন হাগ যদি আয়াক্সের ডাগ আউটে তার কাঁটানো ৫টি বছরের মত করে ম্যানেজার হিসেবে তার ক্ষুধা এবং আবেগ ধরে রাখতে পারেন, তাহলে অবশ্যই তিনিও গার্দিওলা’র পথেই এগুতে থাকবেন।

নিবন্ধটির একদম শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। খুব শীঘ্রই আমরা এমনি মজার আরেকটি বিষয় এর উপর আরেকটি ব্লগ নিয়ে হাজির হব। সেই পর্যন্ত আমরা আপনাকে জানাচ্ছি বিদায়।

Share.

Leave A Reply