লিভারপুল (Liverpool)

    মৌসুম শুরুর আগে নিশ্চয় ইয়ুর্গেন ক্লপ ভুল করেও এমনটি ভাবেননি যে তার দলের শুরুটা এতই হতাশাজনক হবে! অল রেডস বাহিণী এবারের মৌসুমে তিন তিনটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে, তবু তারা এখনো জয়শূন্য। এছাড়া, প্রিমিয়ার লীগ টেবিলে এখন তারা শোচনীয় পরিস্থিতিতে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়েও নিচে নেমে গিয়েছে। তার কারণ হল, তারা গত সপ্তাহে ওল্ড ট্রাফোর্ডে গিয়ে সেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছেই হেরে এসেছে।

    বেশির ভাগ ফুটবল বিশারদ ও বোদ্ধাদের মতেই, লিভারপুলের পারফর্মেন্সে এমন বিশাল পতনের মূল কারণই হল দলটি থেকে সাদিও মানে’র মত একজন অনবদ্য ফরোয়ার্ডের বিদায় নেওয়াটা। মোহাম্মদ সালাহ্, লুইস ডিয়াজ এবং রোবার্তো ফিরমিনো’র মত দূর্দান্ত সব খেলোয়াড় দলে থাকা সত্ত্বেও অল রেডস’রা মোটেও আশানুরূপ পারফর্মেন্স উপহার দিতে পারছেন না।

    তাদের পুরো রক্ষণভাগের কার্যকারিতা ও দক্ষতা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের ডিফেন্সিভ সমস্যার মূল হিসেবে যাচাই করা হয়েছে ভার্জিল ভ্যান ডাইক এবং ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নোল্ডকে, যারা কি না গত মৌসুমে তাদের সেরা পারফর্মারদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। মৌসুমের শুরুতেই যেন তাদেরকে ক্লান্ত মনে হচ্ছে। শারিরিক দক্ষতার দিক দিয়ে এবং ফরোয়ার্ড পাসিং এর দিক দিয়ে তারা অনেককেই হতাশ করেছেন।

    ইয়ুর্গেন ক্লপের জন্য পরবর্তী পরীক্ষা হল স্কট পার্কারের এএফসি বোর্নমাউথ। নিজেদের সবশেষ দু’টি ম্যাচে চেরিস’রা দু’টি বড় মাপের দলের (ম্যান সিটি ও আর্সেনাল) বিরুদ্ধে মোটেও কোন ছাপ ছাড়তে পারেনি, এবং এনফিল্ডের জায়ান্টদের সামনেও তারা একটি সহজ শিকার বলেই মনে হচ্ছে।

     

    এএফসি বোর্নমাউথ (AFC Bournemouth)

    যদিও স্টিভেন জেরার্ডের এস্টন ভিলা দলকে উড়িয়ে দিয়ে তাদের মৌসুমের শুভ সূচনা করেছিল এএফসি বোর্নমাউথ, তবে তার পরে ফিক্সচার লিস্টটি তাদেরকে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়। পর পর দুইটি ম্যাচে তাদেরকে লীগের সবচেয়ে দূর্দান্ত ফর্মে থাকা দু’টি দলের (ম্যান সিটি ও আর্সেনাল) সম্মুখীন হতে হয়। বলাই বাহুল্য, তারা সেই দুইটি ম্যাচেই প্রায় সমান হারে নাকানিচুবানি খায়। প্রথমে তারা এতিহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যান সিটি’র নিকট ধরাসয়ী হয়। সেই ম্যাচটিতে চেরিস’রা কোনপ্রকার আক্রমণই করতে পারেনি, যা প্রিমিয়ার লীগে খুব কমই দেখা যায়। ম্যাচটি তারা হারে ৪-০ গোলে। তবে, সিটিজেনরা কিছু সহজ সুযোগ মিস না করলে সেই ব্যবধানটি আরো অনেক বেশি হতে পারতো।

    পড়ুন:  ওলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স বনাম ম্যানচেস্টার সিটি প্রিভিউ এবং প্রেডিকশন — আর্লিং হাল্যান্ডকে কি কেউ থামাতে পারবে?

    এরপর তারা নিজেদের মাঠ ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে স্বাগত জানায় গানারস খ্যাত ইন-ফর্ম আর্সেনাল দলকে। বোর্নমাউথের কোনপ্রকার গেমপ্ল্যানের অভাব এবং আক্রমণভাগে ধারের অভাব পুরোপুরিভাবে পরিলক্ষিত হয় এই ম্যাচটিতে। তাদের জালে গানারস’রা ৩টি গোল ঢুকাতে সমর্থ্য হয়, যার মধ্যে দু’টিই আসে আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড এর পা থেকে।

    এখানেই শেষ নয়। এরপর চেরিস’রা যাবে মার্সিসাইডের এনফিল্ড স্টেডিয়ামে, যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে একটি ক্ষুব্ধ লিভারপুল দল। এই ম্যাচটিতে জয় পাওয়াও স্কট পার্কারের দলটির জন্য বেশ অসম্ভবই মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, লিভারপুল চাইবে ম্যাচটিতে ভালো খেলে তাদের মৌসুমের প্রথম জয়টি তুলে নিতে, এবং শিরোপার লড়াইয়ে ফিরে আসতে।

     

    প্রেডিকশন (Prediction)

    কাগজে কলমে হোক, বা মাঠের খেলায়, এএফসি বোর্নমাউথ হল এখন পর্যন্ত এবারের প্রিমিয়ার লীগ মৌসুমের সবচেয়ে দূর্বল দল। এটি তাই লিভারপুলের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ ফর্মে ফেরার, এবং ইয়ুর্গেন ক্লপ ও তার ইঞ্জুরি বিধ্বস্ত অল রেডস দল এই সুযোগটি দু’হাত পেতে লুফে নিবে বলেই আমরা ধারণা করছি।

    লিভারপুল ৩ – ০ এএফসি বোর্নমাউথ

    ২.৫ গোলের উর্ধ্বে

    লিভারপুল -২.০ (এশিয়ান হ্যান্ডিক্যাপ)

    Share.
    Leave A Reply