এএফসি বোর্নমাউথ (AFC Bournemouth)

তাদের পরবর্তী ম্যাচটির আগেই এএফসি বোর্নমাউথকে রেলিগেশনের জন্য ফেভারিট হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় সারির লীগ চ্যাম্পিয়নশিপে ফেরার জন্য তাদের অডস বা সম্ভাবনাও এখন আকাশচুম্বী।

তারা মৌসুমের সূচনা করেছিল একটি ইতিবাচক ভঙিতেই, যখন তারা ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে এস্টন ভিলাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। কিন্তু, তারপর থেকে তাদের ফিক্সচার তালিকা তাদেরকে ঘোর বিপদে ফেলে দিয়েছে, কারণ তাদেরকে একের পর এক বড় দলের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে, এবং সেটির প্রভাব তাদের -১৪ গোল ব্যবধানেই প্রকাশ পাচ্ছে।

প্রিমিয়ার লীগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি’র বিরুদ্ধে তারা চারটি গোল হজম করে, এবং পুরো ম্যাচজুড়ে একটি অর্থবহ আক্রমণও তারা করতে পারেনি, বরং পুরো ম্যাচটিই তারা কাটিয়েছে নিজেদের অর্ধে। তারপর নিজেদের মাঠে আর্সেনালের বিরুদ্ধে আরেকটি পানশে পারফর্মেন্স এর পর তাদের উপর থেকে অনেকেরই মন উঠে গিয়েছে।

এরপর তারা এনফিল্ডে পাড়ি জমায় একরকম আপসেট ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে, তাও আবার এমন একটি দলের বিরুদ্ধে যারা কি না তাদের পূর্ববর্তী কয়েকটি ম্যাচে নিজেদের যোগ্যতার তুলনায় অনেক বাজে পারফর্ম করেছিল। কিন্তু, লিভারপুলের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচটি তারা ৯-০ গোলের একটি বিশাল ব্যবধানে হেরে যায়, এবং প্রিমিয়ার লীগের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারার তালিকায় রিডিং, সাউথ্যাম্পটন ইত্যাদি দলের পাশাপাশি নিজেদের নামটিও লিখায়।

আত্মবিশ্বাসের তলানিতে অবস্থানরত এই দলটির পরবর্তী পরীক্ষা হল ওলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স এর বিপক্ষে। কাগজে কলমে সম্ভবত মৌসুমের শুরুর পর থেকে এটিই তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ প্রতিপক্ষ। এবং, এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই স্কট পার্কার ও তার শিষ্যরা হয়তো ভালো ফর্মে ফিরতে পারবে।

 

ওলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স (Wolverhampton Wanderers)

ব্রুনো লাজ ও তার শিষ্যরা এখনও নতুন মৌসুমে জয়ের স্বাদ পায়নি, এবং তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের মতই তারাও রেলিগেশনের লড়াইয়ে লিপ্ত হতে চলেছে বলেই মনে হচ্ছে।

পড়ুন:  টটেনহ্যাম বনাম ক্রিস্টাল প্যালেস: স্পার্স জয়ের পথে ফিরতে চায়

ক্লাবটির সাবেক অধিনায়ক কনোর কোডি’র মত তারকা খেলোয়াড় দল ছাড়ায় তাদের দলের চেহারা অনেকটাই ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে, এবং তাদের উদ্দীপনায়ও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে অনেক বেশি।

তাদের সর্বশেষ ম্যাচে তারা রুবেন নেভেস এর করা অনবদ্য একটি গোলের উপর ভর করে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করতে পেরেছিল। নিউক্যাসেলের হয়ে ম্যাচের একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে অসাধারণ সমতাসূচক গোলটি করেন উইংগার এলান সেইন্ট-ম্যাক্সিমিন।

এবার ওলভস পাড়ি দিবে তেরো নদী, সাত সমুদ্দুর। ইংলিশ সাউথ কোস্টের ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে তারা একটি আহত, ভীত ও সন্ত্রস্ত বোর্নমাউথ দলের সম্মুখীন হবে, যারা কি না তাদের পূর্ববর্তী কয়েকটি ম্যাচে প্রচুর গোল হজম করেছে।

 

প্রেডিকশন (Prediction)

লিভারপুলের কাছে নাকানিচুবানি খাওয়ার পর বোর্নমাউথ এবার কিছুটা হলেও নড়ে চড়ে বসবে। তবে, তারা তেমন কোন বড় সাইনিং না করিয়েই খবরের হেডলাইন কুড়িয়ে নিচ্ছে, যদিও তা অনেকটাই নেতিবাচক ভঙিমায়। যেহেতু মাত্র মৌসুম শুরু হল, সেহেতু এখনও নিজেদেরকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য অনেকটা সময় তারা পাবে। ওলভস অবশ্য এই ম্যাচটিতে খেলতে নামার পূর্বে মোটেও চিন্তিত থাকবে না, এবং ফুরফুরে মেজাজেই তারা চেরিস’দেরকে বধ করবে বলেই আমাদের ধারণা।

এএফসি বোর্নমাউথ ১ – ২ ওলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স

৩.৫ গোলের উর্ধ্বে

ওলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স +১.০ (এশিয়ান হ্যান্ডিক্যাপ)

Share.
Leave A Reply