যা যা থাকছে (Table of Contents)

  • হাঁটুর ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস
  • তার ইঞ্জুরি সম্পর্কে খুঁটিনাটি
  • তার এই ইঞ্জুরি যেভাবে আর্সেনালের জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোকে প্রভাবিত করবে
  • গ্যাব্রিয়েল জেসুস এর ইঞ্জুরির ফলে আর্সেনালের যেসকল খেলোয়াড়েরা নিজেদেরকে প্রমাণ করার সুযোগ পাবে

ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস ম্যানচেস্টার সিটিতে পাঁচটি সফল ও শিরোপা খচিত মৌসুম কাটানোর পর গত গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে নর্থ লন্ডনের ক্লাব আর্সেনালে যোগদান করেন। 

তিনি শুরু থেকেই অসাধারণ ক্রীড়ানৈপূণ্য প্রদর্শন করতে থাকেন আর্সেনালের জার্সি গায়ে, এবং তার সাবেক দল ম্যান সিটিকে টপকিয়ে মুহূর্তেই তিনি গানারস’দেরকে নিয়ে যান প্রিমিয়ার লীগ টেবিলের শীর্ষে। সারা বিশ্বের কোটি কোটি গানারস সমর্থকদের চোখের মণি হয়ে উঠতে তাই তার বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়নি।

তবে, একটি ইঞ্জুরি এখন হয়ে পড়েছে তার পথের কাঁটা, যা তাকে আগামী বেশ কয়েক মাস মাঠের বাইরে রাখতে পারে। এই সময়কালের মধ্যে রয়েছে আর্সেনালের অগণিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, যেগুলিতে তিনি অংশই নিতে পারবেন না। এ কারণে আর্সেনাল ক্যাম্পে শুরু হয়েছে আহাজারি।

গ্যাব্রিয়েল জেসুস এর এই ইঞ্জুরি কিভাবে প্রভাবিত করবে আর্সেনালের আগামী কয়েক মাসের ফুটবলকে? ২০০৩/০৪ মৌসুমের পর থেকে নিজেদের প্রথম প্রিমিয়ার লীগ শিরোপাটি কি অর্জন করতে পারবে গানারস’রা?

আমরা যা জানিঃ গ্যাব্রিয়েল জেসুসের ইঞ্জুরির ব্যাপারে সর্বশেষ (What we know: Gabriel Jesus injury update)

গ্যাব্রিয়েল জেসুসের হাঁটুতে একটি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, এবং তার রিহ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়া তাকে কমপক্ষে আগামী ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে রাখবে।

এর মানে হল এই যে, তার সুস্থ হতে আরো বেশি সময়ও লাগতে পারে, এবং কিছু কিছু রিপোর্টে এমনও বলা হয়েছে যে, জেসুসের সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হতে লাগতে পারে প্রায় চারটি মাস।

ডিসেম্বর যেহেতু এখন মাঝামাঝি পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে, সেহেতু ধারণা করা যায় যে, খুব বেশি হলে জেসুস মাঠে ফিরবেন আগামী বছরের এপ্রিল মাসে। অর্থাৎ, তেমনটিই যদি ঘটে, তাহলে যখন জেসুস মাঠে ফিরবেন, তখন আর তার খেলার জন্য খুব বেশি ম্যাচ বাকি থাকবে না। সে সময় হয়তো বাকি ম্যাচগুলির কোনটিই হবে না বাঁচা মরার লড়াই, যার ফলাফলের উপর নির্ভর করবে শিরোপা কার হাতে যাচ্ছে। ততদিনে লীগ শিরোপার গন্তব্য নির্ধারিত হয়ে যাওয়ারই কথা। ইঞ্জুরি থেকে ফিরে আর্সেনালকে শিরোপা জেতালেন জেসুস — এমন শিরোনাম তখন দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বিশ্বকাপের পূর্বে তার গোলের ধারা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। আর্সেনালের হয়ে প্রিমিয়ার লীগে তার খেলা মোট ১৪টি ম্যাচে তার সর্বমোট গোল সংখ্যা ৫টি। তবে, সেই সময়কালে তার করা ৫টি এসিস্ট হল আর্সেনালে ক্রীড়ারত সকল খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ, তিনি এবারের মৌসুমে শুধুমাত্র গোল করেই নাম কামাননি, বরং আর্সেনালের হয়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ গোলে তিনি অবদান রেখেছেন, তা হোক এসিস্ট দিয়ে, অসাধারণ ড্রিবল দিয়ে, অথবা দলকে ফ্রি কিক বা পেনাল্টি জিতিয়ে।

পড়ুন:  এরলিং _ হ্যাল্যান্ড ম্যানচেস্টার সিটির সেরা সই?

মিকেল আর্তেতা এখনও আশায় বুক বেঁধে রেখেছেন, যেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস এর ইঞ্জুরিটি ততটাও গুরুতর না হয় যতটা আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে প্রচার করা হচ্ছে। তবে, তিনি এটিও ভালো করেই জানেন যে, অনেকের মতেই যে খেলোয়াড়টি এবারের মৌসুমে তার দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, সেই খেলোয়াড়টিকে ছাড়াই খেলার জন্য তাকে তার দলটি প্রস্তুত করতে হবে।

ফুটবল ম্যানেজমেন্টে মিকেল আর্তেতা’র প্রকৃত দক্ষতা এখন সারা পৃথিবীর সামনে আসবে। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের অসাধারণ দৌড়, ড্রিবলিং এবং ফিনিশিং এবিলিটি ছাড়া তিনি কিভাবে তার দলটিকে সামলান বা সামনে এগিয়ে নিয়ে যান, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বলাই বাহুল্য, শুধু স্ট্রাইকারের পজিশনে নয়, বরং আর্সেনালের পুরো ফরোয়ার্ড লাইন জুড়েই প্রভাব বিস্তার করেছেন জেসুস, এবং ফলস্বরূপ তৈরি করেছেন অসংখ্য গোলের সুযোগ।

এ পর্যায়ে যদি কেউ দাবি করে যে, আর্সেনাল বর্তমানে দু’টি শক্ত পাথরের মধ্যে চাপা পড়ে রয়েছে, তাহলে হয়তো তার কথাটিকে সম্পূর্ণভাবে ফেলে দেওয়াটা সমীচীন হবে না। তবে, জেসুস এখন নিজের রিহ্যাব নিয়েই পরিকল্পনা করছেন, এবং তার মত একজন লড়াকু পেশাদার ফুটবলার নিশ্চয়ই নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাঠে ফিরতে।

গ্যাব্রিয়েল জেসুস কি একজন ইঞ্জুরি-প্রোন খেলোয়াড়? (Is Gabriel Jesus injury prone?)

তাকে একজন ইঞ্জুরি-প্রোন খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সাহস কারোই হবে না। তবে, তার অতীত রেকর্ড বলছে যে, ২০১৬ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি মৌসুমেই তিনি কমপক্ষে চার সপ্তাহ করে খেলা মিস করেছেন। শুধুমাত্র ২০২১/২২ মৌসুমটি ছিল তার জন্য ব্যতিক্রমী, যেখানে তিনি কোনপ্রকার ইঞ্জুরিরই সম্মুখীন হোননি।

ঐসকল মৌসুমে তিনি যতই ইঞ্জুরির সম্মুখীন হয়ে থাকুন না কেন, এবারের এই ইঞ্জুরিটিই হতে চলেছে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী ইঞ্জুরি। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মেটাটার্সাল ফ্র‍্যাকচারে আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট ৬৭টি দিন সাইডলাইনে কাটিয়েছিলে। এবারের ইঞ্জুরিটি সেটিকেও অতিক্রম করে যাবে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে।

ট্রান্সফার বাণিজ্য (Transfer business)

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্সেনালের নিকট যে দলটি ছিল, সেই দলটিতে আর মাত্র একজন ফরোয়ার্ড ও একজন মিডফিল্ডার যোগ করে দিলেই একটি শিরোপা প্রত্যাশী দল তৈরি করে ফেলতে পারতো গানারস’রা।

আর্সেনালের নিরলস স্কাউটরা শাখতার দোনেৎস্ক এর মিখায়লো মুদ্রিক এবং ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পালমেইরাস এর দানিলো অলিভেইরাকে যাচাই করেছিল সেই দুই অপশন হিসেবে।

নর্থ লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটির সবচেয়ে বড় দু’টি ট্রান্সফার টার্গেট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন এই দুই প্রতিভাবান খেলোয়াড়। আর্সেনালের অন্যান্য যেসকল ট্রান্সফার টার্গেট সম্পর্কে মিডিয়ায় রিপোর্ট করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আটলেটিকো মাদ্রিদের জাঁও ফেলিক্স, লাৎসিও মিডফিল্ডার সার্জেই মিলিঙ্কোভিচ স্যাভিচ, পোর্তো উইংগার পেপে, এবং লেস্টার সিটি মিডফিল্ডার ইউরি তিলেমান্স।

পড়ুন:  আর্জেন্টিনা ১ - ২ সৌদি আরবঃ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটনগুলির একটি

এসকল খেলোয়াড়দেরকে দলে ভেড়ালে তার জন্য আর্সেনালকে শুধু অনেক বড় একটি অঙ্কই খরচ করতে হবে না, বরং তাদেরকে এমন বড় বড় বেশ কিছু ক্লাবের বিরুদ্ধে একটি বিডিং যুদ্ধেও অংশ নিতে হবে, যারা কি না নিজেরাও ঐসকল খেলোয়াড়দেরকে দলে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তবে, ক্লাবটির জন্য এবং ক্লাবটির সমর্থকদের জন্য একটি সুসংবাদ হল এই যে, আর্সেনালের মালিকরা আগামী জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে খরচ করার জন্য মিকেল আর্তেতাকে একটি বড়সড় অঙ্কই প্রদান করতে রাজি হয়েছেন, ঠিক যেমনটি তারা করেছিলেন গত গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে, যখন ক্লাবটি একাধারে বেশ কিছু বড় বড় সাইনিং করিয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস নিজেই, গোলকিপার এরোন র‍্যামসডেল, এবং লেফট ব্যাক ওলেক্সান্ডার জিনচেঙ্কো, যিনিও কি না ম্যান সিটি থেকেই আর্সেনালে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

তবে, বেশ কয়েক মাস ধরেই শোনা যাচ্ছে যে, মুদ্রিকই হবেন জানুয়ারিতে আর্সেনালের প্রধান ট্রান্সফার টার্গেট। শাখতার দোনেৎস্ক যখন মুদ্রিকের বিনিময়ে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড দাবি করেছিল, এবং সেই প্রাইস পয়েন্ট থেকে তারা কোনক্রমেই নড়াচড়া করছিল না, তখন আর্সেনাল মুদ্রিকের আশা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছিল। তবে, শোনা যাচ্ছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে শাখতার তাদের আস্কিং প্রাইস কমিয়ে অর্ধেকে (অর্থাৎ ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে) নামিয়ে আনতে রাজি হয়েছে। 

এর আগে আর্সেনাল শাখতারের নতুন দাবিটিকে মেনে নিয়ে মুদ্রিককে দলে ভেড়াতো কি না তা নিশ্চিতরূপে বলা কঠিন, তবে হাঁটুর ইঞ্জুরি নিয়ে বেশ লম্বা সময়ের জন্য গ্যাব্রিয়েল জেসুস সাইডলাইনে চলে যাওয়ার ফলে এখন হয়তো প্রিমিয়ার লীগ শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকার লক্ষ্যে আর্সেনালের একমাত্র পথ হল ২১ বছর বয়সী মুদ্রিককে সাইন করানো। এখানে আরও উল্লেখ্য যে, আর্সেনাল শুধুমাত্র প্রিমিয়ার লীগেই খেলছে না, বরং তাছাড়াও তারা একাধারে এফএ কাপ ও উয়েফা ইউরোপা লীগেও টিকে আছে।

এছাড়া আরেকটি সম্ভাবনাও অনেকে সামনে এনেছেন। সেটি হল যে, নর্থ লন্ডনের ক্লাবটি এবারের জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে মিখায়লো মুদ্রিক ব্যতীত অন্য কোন স্ট্রাইকারকেও দলে আনতে পারে, অথবা মুদ্রিকের পাশাপাশি তারা আরেকজন স্ট্রাইকারকেও দলে ভেড়াতে পারে। মোট কথা হল এই যে, গ্যাব্রিয়েল জেসুস এর ইঞ্জুরির কারণে গানারস’রা আসন্ন ট্রান্সফার উইন্ডোটিতে বেশ খানিকটা পয়সা খরচ করবে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে। 

অন্যদের জন্য জ্বলে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ (A chance for others to shine)

আক্রমণভাগে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের কোনই কমতি নেই আর্সেনাল দলে, কারণ তাদের নিকট রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, বুকায়ো সাকা, এডি এনকেটিয়া, এমিল স্মিথ রো, রিস নেলসনদের মত উদীয়মান খেলোয়াড়েরা। এছাড়াও, ক্লাবটির একাডেমিতেও এমন কিছু খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা বেশ ভালো পারফর্ম করে আসছেন, এবং মিকেল আর্তেতা’র নজরও কেড়েছেন।

পড়ুন:  প্রিমিয়ার লিগে লুটন টাউন থেকে কী আশা করা যায়

হ্যাঁ, এটি অবশ্যই নিশ্চিত যে, গ্যাব্রিয়েল জেসুস এর অনুপস্থিতিতে আর্সেনালের গঠন বা ফর্মেশন কিছুটা হলেও পরিবর্তিত হবে। জেসুস যেভাবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদেরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করেন, এবং যেভাবে তিনি প্রতিপক্ষের ডি বক্সের ভেতরে ও আশেপাশের জায়গাগুলিতে চড়িয়ে বেড়ান, তাতে করে আর্সেনালের আক্রমণভাগে তার সতীর্থদের জন্য অনেক স্পেস তৈরি হয়, যা ব্যবহার করে তারা গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। 

এই ধরণের দক্ষতার উপর ভর করেই তিনি এবারের মৌসুমে ৫টি এসিস্ট করার কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছেন, এবং পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি হারে গোলের সুযোগও তৈরি করতে পেরেছেন। যেহেতু সেই দক্ষতাসম্পন্ন খেলোয়াড়টিকে এবং তার দক্ষতাগুলিকে আগামী বেশ কয়েক মাসের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না আর্সেনাল, সেহেতু এখন তারা সুযোগ পাবে এমন একভাবে নিজেদের দলটিকে সাজিয়ে নেওয়ার, যার সম্মুখীন হওয়ার জন্য এখনও প্রস্তুত নয় প্রিমিয়ার লীগের অন্য কোন দলই।

জেসুস দলে থাকলে গানারস’দের ট্যাকটিক খুব ভালোভাবে কাজে দেয়। তবে, তিনি দলে না থাকলে এর মানে হচ্ছে যে, দলের অন্য কেউ তার জায়গায় খেলার সুযোগ পাবে, অথবা দলের ট্যাকটিক ও ফর্মেশন কিছুটা পরিবর্তন করে এক বা একাধিক নতুন খেলোয়াড়কে দলে ঢুকানো হবে।

উদাহরণস্বরূপ, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি হলেন এমন একজন খেলোয়াড় যিনি সেন্টার ফরোয়ার্ড বা সেন্ট্রাল স্ট্রাইকারের পজিশনটিতে খেলতে পারেন, অবশ্যই যদি মিকেল আর্তেতা সেটি চান। এর ফলে যা হবে তা হল, পূর্ণ ফিটনেসে ফেরা এমিল স্মিথ রো অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড এর পাশাপাশি আর্সেনাল মিডফিল্ডে খেলার সুযোগ পেতে পারেন, যা আর্সেনালের মধ্যভাগে আরো বেশি বুদ্ধিদীপ্ততার সঞ্চার ঘটাতে পারে।

এছাড়া, আরো একটি সম্ভাবনা হল এই যে, আর্সেনাল যদি মিখায়লো মুদ্রিককে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়, তাহলে আর্তেতা তাকে সরাসরি জেসুসের পজিশনে না খেলিয়ে লেফট উইঙেও খেলাতে পারেন, এবং সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলাতে পারেন সেই মার্তিনেল্লিকেই। 

তবে, গানারস’দের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিকল্প হল এডি এনকেটিয়াকে জেসুসের পজিশনটিতে খেলানো, যার ফলে আর্সেনাল আরো ডাইরেক্ট ফুটবল খেলতে পারবে, এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের মাঝ বরাবর আক্রমণ করতে পারবে, কারণ এডি এনকেটিয়া তেমনটি করতে বেশ পারদর্শী। তার দক্ষতা ও ক্ষমতার একটি বিশাল প্রমাণ তিনি দিয়েছিলেন ২০২১-২২ মৌসুমের শেষের দিকে, যদিও তার অনবদ্য সেই ফর্মকে পুরোপুরিভাবে কাজে লাগাতে অক্ষম হয়েছিলেন মিকেল আর্তেতা ও আর্সেনাল।

Share.
Leave A Reply