উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের রাউন্ড অব ১৬ তে লিভারপুলের প্রতিপক্ষ হল গত মৌসুমের স্প্যানিশ লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়ী দল রিয়াল মাদ্রিদ। গত ৬ বছরে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের নকআউট পর্বে এই নিয়ে ৪র্থ বার একে অপরের মুখোমুখি হতে চলেছে এই দুই দল।

    এর আগে ২০১৭-১৮ মৌসুমের ফাইনালে, ২০২০-২১ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালে, এবং ২০২১-২২ মৌসুমের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়েছে লিভারপুল। তবে, ঐ তিনবারের প্রত্যেকবারই অল রেডস’দেরকে পরাজিত করেছে লস ব্লাঙ্কোস খ্যাত রিয়াল মাদ্রিদ। শুধু লিভারপুলকেই নয়, বরং প্রিমিয়ার লীগের বেশির ভাগ দলকেই হারানোর মধ্য দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ বার বার প্রমাণ করেছে কেন তাদেরকে ইউরোপের রাজা মানা হয়।

    লিভারপুল হল উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ সফল দল। এই মৌসুমটি অবশ্য তাদের জন্য খুব কঠিন প্রমাণিত হচ্ছে, যা তাদের গ্রুপ পর্যায়ের পারফর্মেন্স থেকেও অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের জন্য বর্তমানে একটি আদর্শ প্রতিপক্ষ তো অবশ্যই নয়, তবে এটি তাদের জন্য একটি ভালো সুযোগও বটে, যেখানে তারা মাদ্রিদের নিকট তাদের সবশেষ তিনটি হারের প্রতিশোধও তুলে নিতে পারে, আবার নিজেদের মৌসুমটিকে সঠিক ট্র‍্যাকেও ফেরাতে পারে।

    লিভারপুলের আদ্যপান্ত বিশ্লেষণ (The SWOT analysis of Liverpool)

    শক্তি (Strengths)

    আগামী ২১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ এনফিল্ডে নিজেদের সমর্থকদের পূর্ণ সাপোর্ট পাবে অল রেডস’রা। তারা অবশ্যই চাইবে যেন সেখানে তারা জয়ের জন্য উপযোগী একটি আবহ তৈরি করতে পারে, যার উপর ভর করে তারা ২০১৯-২০ মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে জয়টির পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। 

    ইংল্যান্ডের সবগুলি ক্লাবের মধ্যে লিভারপুলের সমর্থকদের গলাই সবচেয়ে উঁচু বলে ধারণা করা হয়। তারা সবসময়ই গান গাইতে থাকে, এবং চিৎকার করতে থাকে, কিন্তু কখনোই চুপ থাকে না। এই এনার্জির উপর ভর করেই ২০০৮-০৯ মৌসুমেও তারা রিয়াল মাদ্রিদকে এনফিল্ডে হারিয়েছিল, তাও আবার ৫-০ গোলের এগ্রিগেটে। ২০২১-২২ মৌসুমের ফাইনালের ক্ষীণ ব্যবধানের পরাজয়টিকে উল্লেখপূর্বক ইয়ুর্গেন ক্লপ নিশ্চয় তার দলের সমর্থকদেরকে অনুরোধ করবেন সেদিন মাঠ গরম রাখার জন্য। 

    পড়ুন:  ম্যানচেস্টার সিটি বনাম সেভিয়া প্রিভিউ এবং প্রেডিকশনঃ সিটি'র সামনে আবারও জয়ের হাতছানি

    দূর্বলতা (Weaknesses)

    স্কোয়াড ডেপথ এর দিক দিয়ে লিভারপুলের ঘাটতি রয়েছে, এবং রিয়াল মাদ্রিদের মত একটি দলের বিপক্ষে এটি একটি বড় দূর্বলতা, কারণ রিয়াল মাদ্রিদ আক্রমণাত্মক ও ক্লান্তিহীন ফুটবল খেলে থাকে, যেখানে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দেরকে তাদের পেছনে ৯০ মিনিট ধরেই দৌড়াতে হয়।

    কাগজে কলমে দেখতে গেলে মাঠের সকল পজিশন জুড়েই অধিকতর ভারসাম্য বিদ্যমান রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের। খেলার এই দিকটি সবসময়ই নির্ভর করে একটি দলের স্কোয়াড ডেপথ বা স্কোয়াডের গভীরতার উপর।

    জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে লিভারপুল তাদের আক্রমণভাগে অর্থ বিনিয়োগ করে কোডি গাকপো’র মত একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে দলে ভিড়িয়েছে, যা তাদেরকে এই ম্যাচটিতে জয়লাভের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে, কেননা তিনি গত দুইটি ম্যাচে লিভারপুলের জয়ের নায়কও ছিলেন বটে। এক দশকেরও বেশি সনয় পূর্বে রিয়াল মাদ্রিদ এর বিপক্ষে সেই জয়টির পুনরাবৃত্তি ঘটাতে হলে গাকপো’কে অবশ্যই লিভারপুলের আক্রমণভাগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সুযোগ (Opportunities)

    এই ম্যাচটিতে অল রেডস’দের জেতার সম্ভাবনা খুবই কম, তবে তাদের জন্য একমাত্র আশার আলো হল তাদের হোম এডভান্টেজ।

    ইয়ুর্গেন ক্লপ তার লেজেন্ডারি গেগেনপ্রেসিং ট্যাকটিক থেকে সরে দাঁড়াবেন সেটা একদম ভাবাই যায় না। তবে, তারা যদি আগামী ২১ই ফেব্রুয়ারি এনফিল্ডে অসাধারণ সাপোর্টের জোড়ে একটি জয় হাসিল করতে পারে, তাহলে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আগামী ১৫ই মার্চের দ্বিতীয় লেগে নিজেদের গেগেনপ্রেসিং দর্শন ভুলে ডিফেন্সে জোড় দেওয়াটাই হয়তো তাদের জন্য শ্রেয় পন্থা হবে। 

    হুমকি (Threats)

    যেহেতু তারা একটি ইংলিশ ক্লাব, সেহেতু লিভারপুলকে এখনো এই মৌসুমে প্রচুর ম্যাচ খেলতে হবে।

    একটি ইউরোপীয় ক্লাব একটি মৌসুমে সর্বোচ্চ যত সংখ্যক ম্যাচ খেলতে পারে, গত মৌসুমে ঠিক ততগুলি ম্যাচই খেলেছিল লিভারপুল। ইংল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ কাপ প্রতিযোগিতাগুলির সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেই ম্যাচের সংখ্যাও অনেকটাই বেড়ে যায়।

    এত ম্যাচের কারণে তাদেরকে যে ক্লান্তী পেয়ে বসতে পারে তা এই ম্যাচের ফলাফলে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া, এসকল কারণে তাদের দলে আরো ইঞ্জুরি সমস্যা বাড়তে পারে, যার ফলে তাদের ইতিমধ্যে ক্ষত বিক্ষত দলটির চেহারা আরো বিঘড়ে যেতে পারে।

    পড়ুন:  বেলজিয়াম বনাম কানাডা প্রিভিউ এবং প্রেডিকশনঃ রেড ডেভিলদের সামনে শেষ সুযোগের উপাখ্যান

    লিভারপুলের নিকট হতে যা যা প্রত্যাশা করা যায় (What to expect from Liverpool)

    লিভারপুল তাদের নাম রক্ষার্থে হলেও এই ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবে। তবে, সব মিলিয়ে এই ম্যাচটিতে সেই দলেরই জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকবে, যে দলের ডিফেন্স অধিকতর শক্তিশালী হবে।

    তবে, এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে আমরা লিভারপুলের নিকট হতে বহু স্মরণীয় মুহূর্ত দেখতে পাব বলেই আমাদের ধারণা। এছাড়া, ডারউইন নুনেজ এবং কোডি গাকপো’র মত দুইজন ভরসাবান ও প্রতিভাবান স্ট্রাইকার দলে থাকায় একরকম অঘটন ঘটানোর বেশ খানিকটা সুযোগ অল রেডস’রা পাবে।

    প্রেডিকশন: লিভারপুল এগ্রিগেটে ৩-২ গোলে পরাজিত।

    Share.

    Leave A Reply