...

একটি দলের গেমপ্লে বা ক্রীড়াশৈলি যতই ভালো বা নজরকাড়া হোক না কেন, দর্শক মাতানোর ক্ষেত্রে কখনোই গোল করার কোন জুড়ি নেই। সহজভাবে চিন্তা করলেও দেখা যায় যে, একটি দলের জেতার জন্য গোলই প্রয়োজন হয়, এবং ফুটবলকে অধিকাংশ সময় “গোলের খেলা” বলেই আখ্যায়িত করা হয়। তাই ফুটবল খেলায় গোলের গুরুত্ব অপরিসীম।

যদিও মাঝে মাঝে প্রিমিয়ার লীগ সবচেয়ে ভালো মানের ফুটবল অফার করতে সক্ষম হয় না, তবুও এই লীগটিতে করা গোলের মান সবসময়ই আশ্চর্যজনকভাবে উচ্চ হয়ে থাকে। এমন একটি লীগ এর ইতিহাস ঘেঁটে সবচেয়ে সুন্দর গোলগুলির একটি তালিকা তৈরি করা সত্যিই খুব কঠিন একটি কাজ, বিশেষ করে যখন গোলের ভান্ডারটি এতই বিশাল।

এখানে উল্লেখ করা বিশেষভাবে প্রয়োজন যে, কোন গোলকে বেশি সুন্দর বা দর্শনীয় বলা যায় সেটির একটি সর্বসম্মত স্ট্যান্ডার্ড থাকলেও আমাদের বাছাইকৃত গোলগুলি পুরোপুরিভাবে আমাদের নিজস্ব মন্তব্যের অধীন, এবং যে কেউ সেগুলির সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন।

এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, তাহলে আমাদের গোলের দর্শনীয়তা পরিমাপের মাপকাঠি আসলে কি। প্রথমত, একটি অসাধারণ গোল সেটিকেই বলে যা আপনাকে বা আমাকে চমকিয়ে দিতে পারে এবং একরকম হঠাৎ করেই হয়ে বসে। যিনি গোলমুখে শটটি মারেন, তাকে শটটি এমনভাবে মারতে হবে যেন প্রতিপক্ষের গোলকিপার বলটি কোন দিকে যাচ্ছে তা বোঝার আগেই বল জালে ঢুকে যায়। হ্যাঁ, এ ধরণের গোলকেই আমরা ‘স্টানার’ বলে থাকি। 

আমাদের খাতায় অস্থির গোলের আরেকটি শ্রেণি হল সেসকল গোল যেগুলি গোলস্কোরার একাই তৈরি করে নেন, বা একাই দৌড়ে গিয়ে করে বসেন। সুস্থ্য মস্তিষ্কে ভাবলে এমন হওয়াটা বেশ অসম্ভবই মনে হয় যে, একজন খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের ৪-৫ জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে নিয়ে গোল করে ফেলছেন। খুব কমসংখ্যক বার হলেও যখনই তেমনটি হয়, প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকরাও গোলদাতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক তালি দিতে বাধ্য হোন।

আমাদের সবশেষ ক্যাটেগরি হল অপ্রচলিত বা আনকনভেনশনাল হিট। ফুটবল খেলায় গোল করার সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হল পায়ের মাধ্যমে বা মাথার মাধ্যমে। তবে, কিছু কিছু খেলোয়াড় এমনও রয়েছেন যারা অপ্রকৃতস্থ উপায়ে গোল করার মাধ্যমে বহু সুনাম কুড়িয়েছেন। বাই সাইকেল কিক, ওভারহেড কিক, র‍্যাবোনা, এবং প্যানেনকা কিক এর দ্বারা স্কোর করা গোলগুলি এই শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রিমিয়ার লীগের ৩০ বছরের ইতিহাসে আমরা সম্ভবত প্রত্যেক গেমউইক বা ম্যাচডে’তেই কমপক্ষে একটি করে “গোল অব দ্য সিজন” পুরষ্কার জয়ের যোগ্য গোল দেখে এসেছি। ওয়েইন রুনি, রবিন ভ্যান পার্সি, এলান শেয়ারার এবং টনি ইয়েবোয়ার মত খেলোয়াড়েরা বার বার আমাদেরকে অসাধারণ সব গোল উপহার দিয়েছেন।

আরো সাম্প্রতিক কালে ফিরলে দেখা যায় যে, এরিক ল্যামেলা বা এডিনসন কাভানিদের করা অনবদ্য এবং অবাক করা গোলগুলিই ইংল্যান্ডের গোলের বিলবোর্ড কাঁপিয়েছে। যদিও আমাদের এটি স্বীকার করতেই হচ্ছে যে, প্রিমিয়ার লীগের স্টার বা সুপারস্টার খেলোয়াড়দের করা এমন অমায়িক গোলের সংখ্যা সত্যিই অনেক বেশি, তবুও আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করেছি আপনাদের সামনে প্রিমিয়ার লীগের উজ্জ্বল ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ১০টি গোল উপস্থাপন করার। তবে আর দেরি কিসের? চলুন দেখে নেওয়া যাক কে কে আছেন সেই তালিকায়!

১০. টনি ইয়েবোয়া (বনাম এএফসি উইম্বলডন) [10. Tony Yeboah Vs AFC Wimbledon]

সাবেক এই ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার তার সময়ে বহু দর্শনীয় গোল করতে সমর্থ্য হয়েছিলেন, হোক তা প্রিমিয়ার লীগে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে বা ইউরোপের অন্যান্য দেশের নানা ক্লাবের হয়ে। কিন্তু, এখানে যে গোলটির কথা বলা হবে সেটির চেয়ে দূর্দান্ত গোল তিনি আর করেননি। এটি ছিল তার নিজস্ব ক্লাসিক গোল। এএফসি উইম্বলডন এর বিপক্ষে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে এই  স্ট্রাইকার একক প্রচেষ্টায় অসাধারণ এই গোলটি করেন। 

প্রথমে তিনি অসাধারণ পারদর্শীতার সাথে বুক দিয়ে বলটি নিয়ন্ত্রণ করেন, তারপর বলটিকে একটি গুতো দিয়ে সামনে নেন, এবং আরেকটি জাদুর ছোঁয়া দিয়ে সামনে থাকা একজন উদগ্রীব ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেন। এরপর তিনি রকেটের গতিতে একটি অপ্রতিরোধ্য শট করেন গোলের দিকে যা গোল পোস্ট ছুঁয়ে জালের মধ্যে শুধু ঢুকেই পড়ে না, বরং জালটি প্রায় ছিড়ে ফেলারই উপক্রম হয়। এটি আজও এমন একটি তৃপ্তিদায়ক গোল, যেটি বার বার দেখলেও মন ভরে না।

৯. ইডেন হাজার্ড (বনাম আর্সেনাল) [9. Eden Hazard Vs Arsenal]

বেলজিয়ান তারকা ইডেন হাজার্ড হয়তো চেলসি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমানোর পর থেকেই খুবই বাজে ফর্মে রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু একটি জিনিস কখনোই অমান্য করা যাবে না, এবং তা হল যে, তিনি তার চেলসি ক্যারিয়ারে বেশ কিছু চোখ ধাঁধাঁনো গোল করতে সমর্থ্য হয়েছিলেন। এমনি একটি গোল তিনি করেছিলেন আর্সেনালের বিরুদ্ধে, যখন তিনি একটি একক দৌড়ের মাঝে তিন-চারজন গানার্স ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করে বসেন।

বেলজিয়ান এই সুপারস্টার মাঝ মাঠ থেকে তার দৌড়টি শুরু করেন এবং আর্সেনাল মিডফিল্ডার ফ্রাঞ্চিস ককালানকে শক্তির লড়াইয়ে হারিয়ে সামনে এগিয়ে যান। এরপর ডি বক্সে ঢোকার ঠিক আগেই তিনি ডিফেন্ডার লরাঁ কশিয়ালনিকে দূর্দান্তভাবে কাটিয়ে গোলমুখে মোটামুটি জোড়ালো কিন্তু মাপা একটি শট করেন, যা আর্সেনালের জালে আছড়ে পড়ে। এটি ছিল অসাধারণ একজন খেলোয়াড় এর কাছ থেকে পাওয়া একটি অনবদ্য গোল।

৮. ডালিয়ান এটকিনসন (বনাম এএফসি উইম্বলডন) [8. Dalian Atkinson Vs AFC Wimbledon]

এখন প্রয়াত ডালিয়ান এটকিনসনকে বলা হয়ে থাকে চোখ ধাঁধাঁনো সব গোল করার যন্ত্র। তিনি এস্টন ভিলাতে খেলাকালীন সময়ে তাকে সবাই শুধু তার অসাধারণ গোলগুলির জন্যই যে চিনতো তা কিন্তু নয়, বরং তাকে ফুটবল প্রেমীরা আরো বেশি চিনতেন তার বুদ্ধিদীপ্ত গোল উদযাপনের জন্য। সবাই একরকম মুখিয়েই থাকতো তার উদযাপন দেখার জন্য। এখানে আমরা তার এএফসি উইম্বলডন এর বিরুদ্ধে করা ১৯৯২-৯৩ প্রিমিয়ার লীগ মৌসুমের সেই অনবদ্য সোলো গোলটির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

এটকিনসন তার দলের নিজস্ব অর্ধ থেকে বলের পজিশন দখল করে সামনের দিকে আগাতে থাকেন এবং মাঝ মাঠ পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি প্রতিপক্ষের দুইজন খেলোয়াড়কে অতিক্রম করেন। এরপর তিনি আরেকজন খেলোয়াড়কে দুইবার কাটিয়ে গোলকিপারের সাথে ওয়ান অন ওয়ানে পৌঁছে যান, যেখানে তিনি সবাইকে বিষ্মিত করে একটি অনবদ্য চিপ শট মেরে গোল করেন। এই চিপ শটটি তিনি মেরেছিলেন গোলের প্রায় ২৩ গজ দূর থেকে। গোলটি আসলেই খুবই বিশেষ একটি গোল হিসেবে সবার মনে গেঁথে রয়েছে এবং সেই মৌসুমে এটিই জিতেছিল ‘গোল অব দ্য সিজন’ পুরষ্কার। সেই ম্যাচটিতে তিনি তাতেই থেমে থাকেননি, বরং আরেকটি সুন্দর গোল করে একটি হাস্যরসাত্মক উদ্যাপন করেছিলেন, যেখানে তিনি দৌড়ে গিয়ে গ্যালেরির একজন সমর্থকের ছাতার নিচে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

৭. এরিক ল্যামেলা (বনাম আর্সেনাল) [7. Erik Lamela Vs Arsenal]

আর্জেন্টাইন এই উইংগার তার স্পার্স ক্যারিয়ারে অনেক বেশি গোল যে করেছেন এমনটি মোটেও দাবি করা যাবে না, তবে এই গোলটি অবশ্যই অন্তত স্পার্স সমর্থকদের অনেকদিন মনে থাকবে। স্প্যানিশ ফুল ব্যাক সার্জিও রেগিয়োন একটি সুন্দর ক্রস দিতে সক্ষম হোন মাঠের বাম পার্শ্ব থেকে, যা লুকাস মুরা’র পায়ে পড়ে, কিন্তু শুট করার সুযোগ থাকলেও মুরা তা এগিয়ে দেন স্পেসে থাকা এরিক ল্যামেলা’র দিকে, যিনি সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলটি কিছুটা সামনে থাকা অবস্থায় প্রথম টাচেই গোলমুখে একটি বিশ্ববিখ্যাত র‍্যাবোনা শট ছুঁড়ে দেন। শটটি তার একজন সতীর্থের পায়ের ফাঁক দিয়ে চলে যায়, যা আর্সেনাল গোলকিপার বার্নড লেনোকে হকচকিত করে দেয়। লেনো শুধু বিষ্মিত হয়ে জালের মধ্যে থেকে বলটি কুড়িয়ে নিতেই সক্ষম হয়েছিলেন।

ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নর্থ লন্ডন ডার্বি ম্যাচে এমন একটি বিশেষ গোল করা খুবই গর্বের একটি বিষয়। এই গোলটি পরবর্তীতে ২০২১ সালের পুসকাস পুরস্কারও জিতে নিয়েছিল, যা প্রতি বছরই দেওয়া হয়ে থাকে সারা বিশ্বের সব ফুটবল ম্যাচ মিলিয়ে সে বছরের সবচেয়ে দর্শনীয় গোলটিকে।

৬. লরাঁ রবার্ট (বনাম ফুলহ্যাম) [6. Laurent Robert Vs Fulham]

এই অনবদ্য ফরাসি ফুটবলার তার ক্যারিয়ারে বেশ কিছু মন মাতানো গোল করেছেন, কিন্তু এখানে তার যে গোলটি নিয়ে আলোচনা করা হবে তা ছিল ২০০৪ সালে ফুলহ্যামের বিপক্ষে করা তার অসাধারণ ও এক্রোব্যাটিক একটি গোল। 

অসম্ভব কৌশলী এই ফ্রেঞ্চম্যান খুবই অস্বস্তিকর একটি পজিশনে বলটি কাছে পান, এবং কিছুটা কষ্ট করেই সেটির নিয়ন্ত্রণ নিজের দখলে নেন। এরপর তিনি নিজের ভারসাম্য ফিরিয়ে এনে গোলপোস্টের ফার কর্নারে একটি অপ্রতিরোধ্য শট মারেন, যা রুখে দেওয়ার ক্ষমতা পৃথিবীর কোন গোলকিপারেরই নেই। নিজ চোখে না দেখলে কেউই এই গোলটিকে বাস্তব হিসেবে মেনে নিতে চাইবেন না।

৫. পাইতিম কাসামি (বনাম ক্রিস্টাল প্যালেস) [5. Pajtim Kasami Vs Crystal Palace]

সাবেক ফুলহ্যাম উইংগার পাইতিম কাসামির করা ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে এই গোলটি যে কারো চোখ ধাঁধাঁতে সক্ষম হবে। ক্র‍্যাভেন কটেজে লন্ডন ডার্বির এই ম্যাচে আক্রমণ পালটা আক্রমণে খেলা চলছিল, যখন ডিফেন্স থেকে ক্লিয়ার করা একটি বল ফরোয়ার্ড পজিশনে অসাধারণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন কাসামি এবং খুবই ক্ষীণ একটি কোণা থেকে শট মেরে প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া গোলটি দেখে ক্রিস্টাল প্যালেসসহ পুরো স্টেডিয়ামে থাকা সকলে এবং টিভি’র সামনে থাকা সকলেও বিষ্মিত হয়ে তাকিয়ে থেকেছিলেন শুধু।

গোলটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল কাসামির মাঝ হাওয়া থেকে বলটি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং তার অনবদ্য ভলি। গোলটি যারা দেখেছেন, তাদের জন্য এই গোল মোটেও ভুলে যাওয়ার মত নয়।

৪. মোহাম্মদ সালাহ্ (বনাম ম্যানচেস্টার সিটি) [4. Mohamed Salah Vs Manchester City]

লিভারপুলের এই খ্যাতনামা উইংগার/ফরোয়ার্ড তার গোলস্কোরিং ক্ষমতার জন্য সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। একক প্রচেষ্টায় গোল স্কোর করার দিক থেকেও প্রিমিয়ার লীগে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এই মিশরীয় জাদুকরই। এমনি একটি সোলো গোল তিনি স্কোর করতে সক্ষম হয়েছিলেন গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি’র বিরুদ্ধে একটি ক্রাঞ্চ ম্যাচে। এই তালিকার সবচেয়ে সাম্প্রতিক গোল এটিই। 

মাঝ মাঠ থেকে আসা পাসটি এই উইংগার নিজের দখলে নেন, এবং তার মার্কার কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি শার্প টার্ন নিয়ে তিনি তাকে পেছনে ফেলে দেন। সামনে যাওয়ার রাস্তায় তিনি বার্নার্দো সিলভা’র মিত একজন দূর্দান্ত খেলোয়াড়কে তার জাদুর ছোঁয়া দিয়ে মাটিতে পতিত করেন এবং তারপর এমারিক লাপোর্তেকেও পেছনে ফেলে বক্সের গহীনে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি তার দূর্বল পা (ডান পা) দিয়ে একটি জোড়ালো শট মারেন, যা এডারসন রুখে দিতে ব্যর্থ হোন, এবং লিভারপুল খেলোয়াড়রাসহ পুরো এনফিল্ড আনন্দে মাতোয়ারা হিয়ে ওঠে৷ এমন গোল বার বার দেখা যায় না বৈকি!

৩. অলিভিয়ে জির‍্যু (বনাম ক্রিস্টাল প্যালেস) [3. Olivier Giroud Vs Crystal Palace]

বর্তমানে এসি মিলানে খেলতে থাকা এই ফরাসি ফরোয়ার্ড হলেন বিশ্বের সবচেয়ে কম প্রশংসিত খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। তিনি বলের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও দলের জন্য অনেক কিছু করে থাকেন, যা দর্শকদের নজরকে অধিকাংশ সময়ই এড়িয়ে যায়। এখানে যে গোলটির কথা বলা হচ্ছে তা এসেছিল ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে, যেখানে একটি কাউন্টার অ্যাটাকিং মুভে এলেক্সিস স্যাঞ্চেজ ডি বক্সের ভেতরে একটি লফটেড ক্রস বাড়িয়ে দেন যা অলিভিয়ে জির‍্যুর কিছুটা পেছনে পড়ে যায়।

কিছুটা পেছনে আসা সেই ক্রসটিতে এই ফরাসি স্ট্রাইকার একটি অনবদ্য স্কর্পিয়ন কিক করতে সমর্থ্য হোন, যার ফলে বলটি গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে গোল বারে একটু ছোঁয়া দিয়ে জালে জড়িয়ে পড়ে। গোলটি এমিরেটস স্টেডিয়ামে আশ্চর্যের পাশাপাশি প্রচন্ড আনন্দের ঝড়ও তৈরি করতে সক্ষম হয়।

২. ডেনিস বার্ঘ্যাম্প (বনাম নিউক্যাসেল ইউনাইটেড) [2. Dennis Bergkamp Vs Newcastle United]

এই অপ্রতিরোধ্য ওলন্দাজ (ডাচ) ফুটবলার হলেন এমন একজন গানার, যার কথা সকল আর্সেনাল সমর্থক আজীবন মনে রাখবেন তার করা চোখ ধাঁধাঁনো সব পাস ও গোলের জন্য।

নিউক্যাসেল ইউনাইটেড যখন একটি শীর্ষ চারর দল ছিল, সে সময়ে তিনি তাদের বিরুদ্ধে এই মন মাতানো গোলটি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সাবেক এই ডাচ ফরোয়ার্ড বলকে তার এক পা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তার মার্কারকে ঘুরিয়ে নিয়ে সমর্থ্য হোন। এরপর তিনি বলটি তার আরেক পায়ে নিয়ে সবাইকে চকমা লাগিয়ে গোলকিপারকে আস্তে করে চিপ করে গোল করে বসেন। পুরো স্টেডিয়াম এবং বিশ্বব্যাপী সকল ফুটবল সমর্থকরা যেন সেই মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল। সেটি ছিল প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে সবচেয়ে দর্শনীয় টাচ।

১. ওয়েইন রুনি (বনাম ম্যানচেস্টার সিটি) [1. Wayne Rooney Vs Manchester City]

অনেকেই হয়তো আমাদের এই বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন, কিন্তু আমাদের মতে ম্যাচটির টেম্পো, টেনশন এবং গুরুত্ব বিবেচনা করলে এই গোলটির চেয়ে উত্তম গোল আর কোনটিই হতে পারে না। 

ম্যানচেস্টার সিটি তখন রোবার্তো ম্যানচিনি’র অধীনে চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ছুটছিল, এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জেতার জন্য এই ম্যাচটিতে ৩ পয়েন্ট অর্জন করা খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল। ম্যাচটি সমাপ্তির দিকে পৌঁছে গিয়েছিল, এবং স্কোরলাইন ছিল ১-১। এমন সময় পর্তুগিজ উইংগার নানি ডান পার্শ্বের উইং দিয়ে একটি আশাব্যঞ্জক ক্রস ডি বক্সের মধ্যে পাঠান। এমন সময়, কোনপ্রকার সতর্কতা বাণী না দিয়েই ইংলিশ ফরোয়ার্ড ওয়েইন রুনি সবচেয়ে উঁচুতে উঠে একটি অনবদ্য বাইসাইকেল কিক মেরে বলটিকে সিটি’র জালে জড়ান। একজন অসহায় জো হার্ট এর জন্য সবকিছু দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। যেকোন রেড ডেভিলের জন্যই এটি একটি স্বপ্নের মত গোল।

Share.

Leave A Reply

Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.